বসন্ত বিদেয় হয়ে বোশেখের দিন আসতে চলল।হিসেব মত এখন উদাসী হাওয়া বওয়ার কথা।বদ্ধ বহুতলের চৌহদ্দি মধ্যে না টের পাই উদাসী হাওয়া, না টের পাই উতল হাওয়া ।ঝোড়ো হাওয়া বইলে অবশ্য আলাদা।তার দাপট উপেক্ষা করে কার সাধ্যি।
বাইরে উতল হাওয়া না বইলে কি হবে, ভিতর ঘরে হরেক কিসিমের হাওয়া পর্দা এলোমেলো করে ,ধূলো উড়িয়ে জিনিষপত্র ছড়িয়ে নিজের মত বয়েই চলে।বসন্ত র আগমন টের পেলাম না।যাওয়ার খবরও মিলল না।তবু নিয়মরক্ষে দোল,বসন্তোৎসব, রকমারি সেলফি, মালপো, সবই ফেবুর কল্যানে দেখা দিয়ে গেল।
ঋতুবদলের সবচেয়ে ভাল প্রমান মেলে হোর্ডিং এ।বরাবর চলে গেলে একটা না একটা তো চোখে পড়বেই। শীত আসছে।অমুক ক্রিম গালে মাখো।বসন্ত আসছে?কোম্পানি নতুন লোশন নামিয়েছে।মাখলে বয়স বোঝা যাবে না।কিনে ফেলুন। রাস্তার মোড়ে করিনা কাপুর গাল ভেঙে ছুঁচলো মুখে মসৃণ ত্বকের বিজ্ঞাপন করছেন।আমার ঠাকুমা দেখলে বলতেন অরে দুগা ভাত দেওন লাগে।খাইতে পায় না নাকি! বোশেখের সূচনায় সে হোর্ডিং বদলে গেল।গরমের লোশন আলাদা।একি আমাদের মা কাকিমা দের যুগ যে সারা বছর বসন্তমালতী মেখে চলে যাবে?অথবা তুহিনা ? নাম গুলো মনে পড়লে মায়ের গায়ের গন্ধ পাই।শহরময় শপিং মল।চকচকে ঝকঝকে যক্ষপুরী যেন।নতুন নতুন ভোগবস্তুর বিপুল সম্ভার নিয়ে প্রলোভনের ডানা ছড়িয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে আলোঝলমলে অন্ধকারের দিকে।কেমন গা শিউরে ওঠে।সব চেয়ে বেশি আনন্দ নাকি হল শপিং মল হপিংএই।এত চকমকি তে নন্দিনী রা কোথায় হারিয়ে গেল।রাজাদের গলাটুকুও পাই না।বিশুপাগল গিটার কাঁধে মাচায় গান জুড়েছে।ওদিকে ছাত্র মার খাচ্ছে, মেয়ে পাচার হচ্ছে আর নাচার মুখে কেলাসে জেন্ডার স্টাডিজ পড়িয়ে নিজের কাঁধ নিজে চাপড়াচছি।নির্ভয়া বা তনু বা তাঁদের আগে পরে যে হাজার লক্ষ মেয়ে ধর্ষিত হলেন,হচ্ছেন,নারী শরীরসমূহকে কেন্দ্র করে যে নিগ্রহের প্রতিবাদ ঘটে চলে প্রতি নিয়ত, তাঁদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শরীর নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের আদিখ্যেতা টিভি সিরিয়াল, বিজ্ঞাপনে,সিনেমায়।অশালীন ভণ্ডামি । প্রকারান্তরে নির্যাতনে মদত যোগানো।তাও নির্বিবাদে ।একটি মেয়ে কে শাস্তি দিতে হবে?তাকে ধর্ষন করো।সব শেষ।তারপর সিরিয়ালের নায়িকা যার মাথা ভরতি সিঁদুর তাকে দেখিয়ে বুঝিয়ে দাও সতীত্ব কারে কয় ।সব মেয়ে ভয় পেয়ে যাবে।ছাত্র কে জাতপাত নিয়ে ঠুকে দিও।ইমোশনাল অত্যাচারে আত্মহত্যা করবে।ফেবু তে কষ্ট পাওয়া কুকুরছানা দেখে মানবিক আচরণ বিধি নিয়ে নতুন করে আতংক হয়।ঘেউ ঘেউ করেছে?ন তলার জানলা দিয়ে ফেলে দাও।কুকুর ছানা হয়েছে?বিষ খাইয়ে মেরে দাও।ছেলেটি তার নিজের কথা নিজের মতো করে বলেছে?মেরে কপাল ফাটিয়ে গারদে পোড়ো।তারপর ভীষণ ইন্ডিয়ান হয়ে খেলা দেখে পটকা ফাটিয়ে মলে যাবো সেলিব্রেট করতে।কানে ফোন ঝুলিয়ে ঘুরবো।আশেপাশে তাকাবো না।
না চাইলেও কথা কানে আসে।বসন্ত চলে যাচ্ছে ।ফোন কানে তরুণী কাকে বলছে আমার পোষাচ্ছে না।তুমি রাস্তা দেখো।বাহনচালক ফোনে তার বউকে ধমকাচছে বেশী বাড়াবাড়ি করলে পিটিয়ে বার করে দেব।তরুন পথচারী ফোনে কাউকে বলছে আমার পক্ষে তোমার সঙ্গে চলা সম্ভব না।বৃদ্ধ বলছেন এবারও আসবি না?তোর মা র শরীর ভালো নেই।অফিসার বলছেন আমার প্রতিটি মিনিট দামী! !!এত রুক্ষতা ছড়িয়ে আছে সভ্যতার পরতে পরতে,বসন্ত এলেই কি গেলেই কি?শপিং মল তো থাকবে!সত্যি বলছি।ভাবতে ভয় হয়।
বাইরে উতল হাওয়া না বইলে কি হবে, ভিতর ঘরে হরেক কিসিমের হাওয়া পর্দা এলোমেলো করে ,ধূলো উড়িয়ে জিনিষপত্র ছড়িয়ে নিজের মত বয়েই চলে।বসন্ত র আগমন টের পেলাম না।যাওয়ার খবরও মিলল না।তবু নিয়মরক্ষে দোল,বসন্তোৎসব, রকমারি সেলফি, মালপো, সবই ফেবুর কল্যানে দেখা দিয়ে গেল।
ঋতুবদলের সবচেয়ে ভাল প্রমান মেলে হোর্ডিং এ।বরাবর চলে গেলে একটা না একটা তো চোখে পড়বেই। শীত আসছে।অমুক ক্রিম গালে মাখো।বসন্ত আসছে?কোম্পানি নতুন লোশন নামিয়েছে।মাখলে বয়স বোঝা যাবে না।কিনে ফেলুন। রাস্তার মোড়ে করিনা কাপুর গাল ভেঙে ছুঁচলো মুখে মসৃণ ত্বকের বিজ্ঞাপন করছেন।আমার ঠাকুমা দেখলে বলতেন অরে দুগা ভাত দেওন লাগে।খাইতে পায় না নাকি! বোশেখের সূচনায় সে হোর্ডিং বদলে গেল।গরমের লোশন আলাদা।একি আমাদের মা কাকিমা দের যুগ যে সারা বছর বসন্তমালতী মেখে চলে যাবে?অথবা তুহিনা ? নাম গুলো মনে পড়লে মায়ের গায়ের গন্ধ পাই।শহরময় শপিং মল।চকচকে ঝকঝকে যক্ষপুরী যেন।নতুন নতুন ভোগবস্তুর বিপুল সম্ভার নিয়ে প্রলোভনের ডানা ছড়িয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে আলোঝলমলে অন্ধকারের দিকে।কেমন গা শিউরে ওঠে।সব চেয়ে বেশি আনন্দ নাকি হল শপিং মল হপিংএই।এত চকমকি তে নন্দিনী রা কোথায় হারিয়ে গেল।রাজাদের গলাটুকুও পাই না।বিশুপাগল গিটার কাঁধে মাচায় গান জুড়েছে।ওদিকে ছাত্র মার খাচ্ছে, মেয়ে পাচার হচ্ছে আর নাচার মুখে কেলাসে জেন্ডার স্টাডিজ পড়িয়ে নিজের কাঁধ নিজে চাপড়াচছি।নির্ভয়া বা তনু বা তাঁদের আগে পরে যে হাজার লক্ষ মেয়ে ধর্ষিত হলেন,হচ্ছেন,নারী শরীরসমূহকে কেন্দ্র করে যে নিগ্রহের প্রতিবাদ ঘটে চলে প্রতি নিয়ত, তাঁদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শরীর নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের আদিখ্যেতা টিভি সিরিয়াল, বিজ্ঞাপনে,সিনেমায়।অশালীন ভণ্ডামি । প্রকারান্তরে নির্যাতনে মদত যোগানো।তাও নির্বিবাদে ।একটি মেয়ে কে শাস্তি দিতে হবে?তাকে ধর্ষন করো।সব শেষ।তারপর সিরিয়ালের নায়িকা যার মাথা ভরতি সিঁদুর তাকে দেখিয়ে বুঝিয়ে দাও সতীত্ব কারে কয় ।সব মেয়ে ভয় পেয়ে যাবে।ছাত্র কে জাতপাত নিয়ে ঠুকে দিও।ইমোশনাল অত্যাচারে আত্মহত্যা করবে।ফেবু তে কষ্ট পাওয়া কুকুরছানা দেখে মানবিক আচরণ বিধি নিয়ে নতুন করে আতংক হয়।ঘেউ ঘেউ করেছে?ন তলার জানলা দিয়ে ফেলে দাও।কুকুর ছানা হয়েছে?বিষ খাইয়ে মেরে দাও।ছেলেটি তার নিজের কথা নিজের মতো করে বলেছে?মেরে কপাল ফাটিয়ে গারদে পোড়ো।তারপর ভীষণ ইন্ডিয়ান হয়ে খেলা দেখে পটকা ফাটিয়ে মলে যাবো সেলিব্রেট করতে।কানে ফোন ঝুলিয়ে ঘুরবো।আশেপাশে তাকাবো না।
না চাইলেও কথা কানে আসে।বসন্ত চলে যাচ্ছে ।ফোন কানে তরুণী কাকে বলছে আমার পোষাচ্ছে না।তুমি রাস্তা দেখো।বাহনচালক ফোনে তার বউকে ধমকাচছে বেশী বাড়াবাড়ি করলে পিটিয়ে বার করে দেব।তরুন পথচারী ফোনে কাউকে বলছে আমার পক্ষে তোমার সঙ্গে চলা সম্ভব না।বৃদ্ধ বলছেন এবারও আসবি না?তোর মা র শরীর ভালো নেই।অফিসার বলছেন আমার প্রতিটি মিনিট দামী! !!এত রুক্ষতা ছড়িয়ে আছে সভ্যতার পরতে পরতে,বসন্ত এলেই কি গেলেই কি?শপিং মল তো থাকবে!সত্যি বলছি।ভাবতে ভয় হয়।

ki bhalo
ReplyDeleteki bhalo
ReplyDeleteThis comment has been removed by the author.
ReplyDeleteভালো লাগলো
Deleteভালো লাগলো
Deleteআমারও
DeleteThis comment has been removed by the author.
ReplyDelete