Monday, 1 August 2016

পাহাড়ের কাছে গেলে প্রতি নিয়ত কেমন করে ঐশ্বর্যবান হয়ে উঠি ,হয়ে উঠি মহামহিম আর কেমন করে এই সাধারন ক'টি কথা বারবার লিখি বারবার লিখি আর ভাবি এই মুহূর্তে টান মেরে খুলে দেবো সব ছদ্মবেশ আর শেওলাপড়া মেঝে ,উই লাগা দেওয়াল ভেদ করে সবাইকে নিয়ে যাবো পাকদণ্ডী র বাঁকে কারণ মরে মরে ছক কষে বেঁচে থাকার সহজ বৃত্ত গুলি মূলত ফাঁসির দড়ি অথচ কেউ দেখতে পাচ্ছি না কেউ দেখতে পাচ্ছে না যে অদ্ভূত এক নীলচে ভোর অপেক্ষা করছে ,অপেক্ষা করছে শেওলাপড়া দেওয়ালের গায়ে হলুদ পুষ্প রাজি ,তারা কেমন পরাগ ছড়াচ্ছে রোদদূরে আর সব রক্ত পাতের কাহিনী মুছে দিচ্ছে, ধুয়ে দিচ্ছে অন্ধ চোখের গ্লানি, খিটিমিটি করা দম্পতি সহসা লাবণ্য পূর্ণ প্রাণ, একি অলৌকিক বিস্ময় সমস্ত গেরিলা যুদ্ধ থেমে যাচ্ছে, থেমে যাচ্ছে বন্দুকের শব্দ, পেলেটের খোঁচা আর মৃত্যু কে কেউ ভয় পাচ্ছে না,গভীর গিরিখাতের সামনে দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে ,হঠাৎই ঝুপঝুপে বরষণে ভিজে এই দেখো উড়িয়ে দিচ্ছি সব বিমর্ষতা আর অভিধান থেকে ছিঁড়ে কুচিকুচি করে উড়িয়ে দিচ্ছি বিষন্নতা, এইসব শৌখিন বিষন্নতা ফুঁ দিয়ে সরিয়ে দিতে পারে দুমড়ানো বাড়ি,গাড়ি উলটালে কোথায় যাবে বলো কি করবে আতঙ্ক ধরে নিয়ে গেলে ভূমিকম্প হলে কোথায় পালাবে তার চেয়ে মন দিয়ে বাঁচো দেখো ঠান্ডা বাতাস এসে ভালবেসে গেল বলে গেল উৎকীর্ণ হতে আর ঝলমল করে বেঁচে নাও ঝরণা র হাত ধরে বলো কাব্য কথা গাদোয়ালে সাজো, সাজো বড় টিপে,শুচিবাই দিদিমণি বেঁচে নাও আপ্রাণ কি বা হবে গুঢ় মনস্তাপে আহত কৈশোর বাঁচো নবধারাজলে আহা পুত্র হারা মম্ কেনো পানীয়ের ঘ্রাণ খোঁজে দুধের বোতলে খোঁজে পাহাড়ের মগ্ন ধূপে অমৃত বারিধি, কিছু অনিশ্চিত বেঁচে থাকা কাজলে আতরে বাঁচো গাঢ় বন্দরে আর এইসব চিত্র মালা নিয়ে যাক অরণ্য অন্তরে
পাহাড়ের কাছে গেলে প্রতি নিয়ত কেমন করে ঐশ্বর্যবান হয়ে উঠি ,হয়ে উঠি মহামহিম আর কেমন করে এই সাধারন ক'টি কথা বারবার লিখি বারবার লিখি আর ভাবি এই মুহূর্তে টান মেরে খুলে দেবো সব ছদ্মবেশ আর শেওলাপড়া মেঝে ,উই লাগা দেওয়াল ভেদ করে সবাইকে নিয়ে যাবো পাকদণ্ডী র বাঁকে কারণ মরে মরে ছক কষে বেঁচে থাকার সহজ বৃত্ত গুলি মূলত ফাঁসির দড়ি অথচ কেউ দেখতে পাচ্ছি না কেউ দেখতে পাচ্ছে না যে অদ্ভূত এক নীলচে ভোর অপেক্ষা করছে ,অপেক্ষা করছে শেওলাপড়া দেওয়ালের গায়ে হলুদ পুষ্প রাজি ,তারা কেমন পরাগ ছড়াচ্ছে রোদদূরে আর সব রক্ত পাতের কাহিনী মুছে দিচ্ছে, ধুয়ে দিচ্ছে অন্ধ চোখের গ্লানি, খিটিমিটি করা দম্পতি সহসা লাবণ্য পূর্ণ প্রাণ, একি অলৌকিক বিস্ময় সমস্ত গেরিলা যুদ্ধ থেমে যাচ্ছে, থেমে যাচ্ছে বন্দুকের শব্দ, পেলেটের খোঁচা আর মৃত্যু কে কেউ ভয় পাচ্ছে না,গভীর গিরিখাতের সামনে দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে ,হঠাৎই ঝুপঝুপে বরষণে ভিজে এই দেখো উড়িয়ে দিচ্ছি সব বিমর্ষতা আর অভিধান থেকে ছিঁড়ে কুচিকুচি করে উড়িয়ে দিচ্ছি বিষন্নতা, এইসব শৌখিন বিষন্নতা ফুঁ দিয়ে সরিয়ে দিতে পারে দুমড়ানো বাড়ি,গাড়ি উলটালে কোথায় যাবে বলো কি করবে আতঙ্ক ধরে নিয়ে গেলে ভূমিকম্প হলে কোথায় পালাবে তার চেয়ে মন দিয়ে বাঁচো দেখো ঠান্ডা বাতাস এসে ভালবেসে গেল বলে গেল উৎকীর্ণ হতে আর ঝলমল করে বেঁচে নাও ঝরণা র হাত ধরে বলো কাব্য কথা গাদোয়ালে সাজো, সাজো বড় টিপে,শুচিবাই দিদিমণি বেঁচে নাও আপ্রাণ কি বা হবে গুঢ় মনস্তাপে আহত কৈশোর বাঁচো নবধারাজলে আহা পুত্র হারা মম্ কেনো পানীয়ের ঘ্রাণ খোঁজে দুধের বোতলে খোঁজে পাহাড়ের মগ্ন ধূপে অমৃত বারিধি, কিছু অনিশ্চিত বেঁচে থাকা কাজলে আতরে বাঁচো গাঢ় বন্দরে আর এইসব চিত্র মালা নিয়ে যাক অরণ্য অন্তরে
চারদিকে এত হিংস্রতা।ভাল লাগছে না কিছু।তোমার হলুদ রঙ ভাল লাগে।আমার হলুদ রং না-পসন্দ ।আমার প্রিয় বেগুনী ।তাই তোমাকে আমি মারবো?আমার লুচি ছোলার ডাল পছন্দের খাবার,তোমার রুচি পিৎজাতে।তোমায় আমি গাল মন্দ করবো? লম্বা চুল আমার ভাল লাগে বলে তোমার ছোট চুল দেখে আমি টিটকিরি দেবো? তুমি আকাশকে পূজো করো।আমি পূজো করি জল।তাই তুমি আমাকে ছুরি মারবে?দেওয়াল তুলেও শান্তি নেই।মুখ দেখাদেখি বন্ধ ।তাতে কি? পুড়িয়ে না মারলে গায়ের জ্বালা মিটছে না।ধর্ষণ না করলে প্রশমিত হচ্ছে না বিকৃতকাম।লোভ।আরো লোভ।পছন্দের র মেয়েটি বুঝি চলে গেল অন্য কোথাও ।প্রতিযোগী ছেলেটির পেটে ঢুকিয়ে দাও ভাঙা বোতল।কুপিয়ে মারো সুখী শান্ত পরিবার।পেলেট গান ছোড়ো কচি কিশোরের চোখে। কেমন পাগল পাগল লাগে ।মেরে ফেলা এত সহজ!পার্টি মানেই নেশাগ্রস্ত হুল্লোড় আর বেয়াদপি।স্বাভাবিক বিনয় আর সৌজন্য হারিয়ে যাচ্ছে ।আমরাই কি খুব সহিষ্ণু সবসময়?প্রযুক্তির ডানায় ভর দিয়ে ভাবছি হাম কি হনু।আসলে প্রতি মুহুর্তে আরো বেশী অসহিষ্ণু হয়ে উঠছি।আরো বেশী স্পর্ধিত ।আমার বাড়ি তোমার চেয়ে ভালো ।আমার দেশ তোমার দেশের চেয়ে ভালো ।এবং ভাষা এবং ধর্ম ।অসহিষ্ণু স্পর্ধা র অহংকারী ধ্বজাধারী রা হানাদার হয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ।খুব ভয় হয়।অস্থির লাগে এত অশান্তি র মধ্যে গোটা জাতি নাকি পোকেমন গো খেলছে।খেলতে খেলতে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলছে।অনেক চেষ্টা করেও খেলাটার মাহাত্ম্য বুঝলাম না।জেনারেশন গ্যাপ বটে।কিন্তু পোকেমনের কথায় আমার একজনের কান্ড মনে পড়ল ।তাকে মনে করে এই বিশ্রী সময়ে একটু শান্তি পাই। সে হল মাকু।লীলা মজুমদারের মাকু।শুনলাম মাকু স্কুলের সিলেবাসে এসেছে।এ আনন্দের খবর রাখি কোথায়?মাকু পড়ে অনাবিল আনন্দে ভেসে গেছিলাম যখন,তখন আমি ক্লাস থ্রী ।পায়ে ব্যান্ডেজ ।খেলতে গিয়ে পা কেটে বিছানায়।জ্বর ।পরেরদিন পরীক্ষা ।এমতাবস্থায় বাবার প্রেসক্রিপশন চিকেন সুরুয়া আর লীলা মজুমদারের ছোটদের অমনিবাস।ছোট ছোট গপ্পো উপন্যাসে ঠাসা।রসে টইটুমবুর।মাকু ঐরকম একটা লেখা ।ছোট্ট দুই বোন সোনা আর টিয়া।মনের দুঃখে বাড়ি ছেড়ে চলল কালিয়ার বনে।কেন?না পিসির ছেলে বোমবা আসছে।এখন সব খাবার আর খেলনা তারই জন্য ।ইসস।কি দুঃখ।পথে দেখা ঘড়িয়ালার সঙগে।তার কলের পুতুল মাকু হারিয়ে গেছে।সে আবার কাঁদে হাসে।সোনা টিয়া কি কালিয়ার বনে মাকু কে খুঁজে দেবে?টিয়া আবার কথায় কথায় দামোদর নদ ।সে হোক।কালিয়ার বন কি যে সে বন?সেখানে কত প্রজাপতি আর খরগোশ।সবুজ পাতার ওপর রোদ ঝিকমিক করে।মাকড়সা জাল বোনে।এইখানে ওদের দেখা মাকুর সঙ্গে ।মাকু কি ভাল।ওদের কোলে করে নদী পার করে দিল পর্যন্ত! !!আর আছে হোটেলওয়ালা আর সার্কাস পার্টি র ছেলেপুলে।তাদের মালিক নিখোঁজ কিনা।তাই হোটেলওয়ালা তাদের মকশ করায়।ট্রাপিজের খেলা হয় বটগাছের ঝুড়িতে।আকাশ থেকে পরীরাণীকে নামায় জাদুকর।খেলাশেষে সবাই গাছের ডালে বসে হাতরুটি আর স্বর্গের সুরুয়া খায়।আমি এখনো কালিয়ার বনে যেতে চাই !!!!শেষে কিন্ত অনেক মজা।বাড়ির সককলে সোনা টিয়া কে খুঁজতে কালিয়ার বনে।পিসির ছেলে ওদের দেখে বলল দিদিয়া! !ব্যস! আর হিংসে নেই! হোটেলওয়ালা ই তো নোটোমাসটার !আর মাকু?সে তো ....আর বলব না।প্লীজ পড়ে নিও।রবিবার ঝলমলে হয়ে যাক!পৃথিবীর সব সোনা টিয়ারা ভালো থাকুক।মাকুরা যেন পোকেমন হয়ে না যায়।মাকুকে দখল করা যায় না।সে ভালোবাসা দিয়ে সবাইকে দখল করে।মানুষ ও তাই করুক না!
ফুরায় যা তা ফুরায় শুধু চোখে কিছু হারিয়ে গেল গেল করাআমার স্বভাব বিরুদ্ধ কোনোরকম হাহাকার তেমন পোষায় না।বাবা বলতেন গেছে গেছে।বাঙাল ভাষায় গেসে গেসে।থোও।রাশি রাশি কলম হারানোর প্রেক্ষিতে এই উক্তি ।আসলে হারানোর গপপোটা কিছু বাকি থেকে গেছে।সেটি সেরে নিতে চাই । মেঘে ঢাকা তারা বা কোমল গান্ধার দেখার অনেক অনেক আগে,প্রায় জ্ঞান হতে হতেই ঠাকুমা,ছোট ঠাকুমা আর তাঁদের সমসাময়িকদের মধ্যে দেখেছি দেশ হারানোর বেদনা। সে যে কি হাহাকার তা অগুন্তি বাঙালি জানেন। অন্য দেশে এসে রিফিউজি হবার যন্ত্রণা ঢক করে গিলে ফেলা যায় না।সারাজীবন সেই শোকেতাপেই কাটিয়ে দিলেন, অন্য রকম করে কিছু ভাববার অবকাশ ই দিলেন না।এ নিয়ে অবশ্য ঘটিমহলে একটা চালু রসিকতা আছে .....বাঙালদের তো সবারই দেশে জমিদারি আসিল!! না।সকলের জমিদারি ছিল না বটে। কিন্তু ভাল করে খেয়ে পড়ে থাকার মত জমিজমা, বাগান পুকুর গাছটা ফল পাকুড়টা ছিল। বর্ষা কালে পদ্মা র ইজারা নেওয়া হত গল্প শুনেছি।যত ইলিশ ধরা পড়ত সব বাড়িতে আসত।বাড়িতে মুরগি উঠত না।বাবার জন্য আলাদা করে উঠোনে উনুন করে মুরগি রান্না হত।বড় ছেলের স্পেশাল খাতির।সেসব হারানো দিনের কথা বাবা আমাকে একটি হাতে লেখা বই আকারে দিয়ে গেছেন।চশমা হারাই,চাবি হারাই।চশমার খাপ আরো বেশী হারাই,পেন ড্রাইভ হারাতে হারাতে জেরবার,পছন্দের শান্তিনিকেতনী রুমালটিও সেমিনারে র দিন কেমন করে হারিয়ে ফেললাম।তবে বাবার লেখা বইটি কিন্ত হারাই নি।তাতে দেশ হারানো ঘর হারানো একটি কিশোরের সুখ দুঃখ আজও ধরা আছে।সে গ্রামের স্কুলে পড়ত, নদীতে সাঁতার কাটত, দস্যিপনা করে বেড়াতো আপনমনে।তার দেখভাল করার দায়িত্বে ছিলেন এক লেঠেল।তাঁর নাম মইজুদদিন ভাই।তিনি তাকে সাঁতার শিখিয়েছিলেন।তিনি সামাল দিতেন ঐ কিশোরের সব দৌরাত্ম্য ।মাঝরাতে নৌকো থেকে ধরে আনা হোক বা গাছের ডাল থেকে নামিয়ে আনা।এমনকি লুকিয়ে কচ্ছপের মাংস খাওয়ার সঙ্গী ও তিনি। দেশভাগের সময় যখন এপারে আসার ভয়ংকর দিন এল,সেই মইজুদদিন ভাই ওই কিশোরকে হাফ প্যান্ট ছাড়িয়ে লুঙ্গি পরিয়ে কুখ্যাত সকরিগলি ঘাট পার করে দিয়েছিলেন।সেই অসময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব সুখদুঃখের সত্যি ঘটনা জড়িয়ে আছে।তাই আমার সাদাত মানতো বুঝতে এতটুকু অসুবিধে হয়নি।হারিয়ে যাওয়া ঢাকা লাহোর মুম্বই কলকাতা চোখের সামনে ছবির মতো।কর্কশ রক্তাক্ত নিষ্ঠুর দিন। তার মাঝেই লালিত সুকুমার মন।সেসব হারিয়ে গিয়েও ফিরে এল বুঝি!দেশভাগের অভিঘাত বড় সুদূরপ্রসারী।কোথায় কোন কোণে ওত পেতে বসে আছে গোপন প্রতিহিংসা কে জানে।তাদের উদ্দাম হিংসা এখন মহামারী র রূপ নিয়েছে । অস্থিরতার কথা থাক।স্থিরতা র কথা বলি।কৈশোরে হারিয়ে ছিলাম কলকাতাকে।বাবা বদলী হয়ে গেলেন কুচবিহার।অস্থির শহরকে ছেড়ে যেতে হয়েছিল শান্ত এক দীঘিময় মফস্বলে ।তখন মফস্বলের একটা নিজস্বতা ছিল।এখনকার মতো হাফ টিকিট না।সে ছিল রাজার শহর।ছোট ছোট একতলা বাড়ি ।সামনে বাগান।গাছপালা জড়ানো।কলকাতা, স্কুল, বন্ধু, পাড়া ,গানের স্কুল সব হারিয়ে আমি তখন বেজায় মনভারি ।হায়রে ।এখন অমন জায়গাতে থাকতে পারলে কি ভালো ই না হোতো।রাজার শহরে তখন হাতে গোণা দোতলা বাড়ি ।বেশী র ভাগ বাড়িতে টিনের চালের নীচে ছাউনি দেওয়া । সামনে পেছনে বাগান দেখে বাবা তো আত্মহারা ।পেছনের বাগানে নিজে মাটি ফেলে কপি ,কুমড়ো,টমেটো চাষ শুরু হল।টিনের চালের ওপর বৃষ্টি র শব্দ এখনো কানে আছে।হারায় নি।বারান্দা টি প্রশস্ত ।তাতে বাবা নিজে হাতে বাঁশের জাফরি বানিয়েছিলেন।চমৎকার লাগতো দেখতে।জাগরিত লতানো গাছ।খুব মায়াবী লাগতো টেবিল আলোতে।কিন্তু বারান্দা তে ব্যাং আসে।তাকে ধরতে আসে সাপ।মা আর আমি ভয়ে অস্থির ।ওখানকার লোক হাসে।দূর!ও তো হেলে সাপ।কাটে না।বাচ্চা রা হেলে সাপের লেজ ধরে ছুঁড়ে ফেলে।চেনা পৃথিবী এইভাবে পালটায়।নতুন স্কুল ।নতুন বন্ধু ।একেবারে আলাদা পরিবেশ।মানিয়ে নিতে সময় লাগে।বেশি গজগজ করলে মা বকুনি দেন।এখানেই ভাল রেজাল্ট করে দেখাও না!ফেলে আসা আজনমের শহর ,ফেলে আসা বেড়াল হাতছানি দেয়।তাকে অনেক চেষ্টা করেও আনা যায়নি।গাড়ি থেকে লাফ দিয়েছিল।পরে কত কেঁদে ফিরেছে ভেবে গলার কাছে ব্যথা করত। কিন্তু বাড়ির পিছনে মস্ত দীঘি ।তারপাশে একটা ছোট্ট কাঠের বাড়ি।সেখানে এক মা থাকেন তার দুই মেয়ে নিয়ে ।ছোটজন রাতুল আমার বন্ধু । ওদের ছোট কাঠের বাড়ি দেখে আমি মুগ্ধ ।বারান্দা য় সারি সারি অর্কিড ঝুলছে।বসার ঘরে বেতের সোফা ঘেঁষে ও অর্কিড ।বারান্দা তে দাঁড়িয়ে একটু পা বাড়ালে দিঘীর জল হাত বুলিয়ে যায়।ঠিক যেন রূপকথা।তারা হারিয়ে যায়।নতুন বন্ধুরা তদদিনে প্রাণের বন্ধু হয়ে গেছে।তাদের সঙ্গে প্রাণের আড্ডা মাঝে অনেকদিন হারিয়ে গেছিল।ফেবু র কল্যাণে ফেরত এসেছে।ফেরত এসেছে আমার হারিয়ে যাওয়া কলকাতা আর পুরনো বন্ধু দের অপার ভালবাসা।হারানো প্রাপ্তি নিরুদ্দেশ এই ফেবু তেই সম্ভব ।এত ফিরে পেয়ে ভাবি এই ঐশ্বর্য রাখব কোথায়?যা গেছে তা স্রোতে মিশে গেছে।যা আছে তা কম কি?ইটানগর বেড়াতে গিয়ে হারিয়েছিলাম খুব সুন্দর একটি flask. এত সুন্দর ছবি সচরাচর থাকে না।আঠারো ঘন্টা ভ্রমণ করে গাড়ি তে ফেলে এলাম ।মন খারাপ?না না! থাকলো না হয় আমার একটি ছোট জিনিস আমার দেশের এক কোণে কোন অচেনা বাড়িতে ।ঐ ভাবে ভাবলেই কিছু হারায় না।
ফুরায় যা তা ফুরায় শুধু চোখে কিছু হারিয়ে গেল গেল করাআমার স্বভাব বিরুদ্ধ কোনোরকম হাহাকার তেমন পোষায় না।বাবা বলতেন গেছে গেছে।বাঙাল ভাষায় গেসে গেসে।থোও।রাশি রাশি কলম হারানোর প্রেক্ষিতে এই উক্তি ।আসলে হারানোর গপপোটা কিছু বাকি থেকে গেছে।সেটি সেরে নিতে চাই । মেঘে ঢাকা তারা বা কোমল গান্ধার দেখার অনেক অনেক আগে,প্রায় জ্ঞান হতে হতেই ঠাকুমা,ছোট ঠাকুমা আর তাঁদের সমসাময়িকদের মধ্যে দেখেছি দেশ হারানোর বেদনা। সে যে কি হাহাকার তা অগুন্তি বাঙালি জানেন। অন্য দেশে এসে রিফিউজি হবার যন্ত্রণা ঢক করে গিলে ফেলা যায় না।সারাজীবন সেই শোকেতাপেই কাটিয়ে দিলেন, অন্য রকম করে কিছু ভাববার অবকাশ ই দিলেন না।এ নিয়ে অবশ্য ঘটিমহলে একটা চালু রসিকতা আছে .....বাঙালদের তো সবারই দেশে জমিদারি আসিল!! না।সকলের জমিদারি ছিল না বটে। কিন্তু ভাল করে খেয়ে পড়ে থাকার মত জমিজমা, বাগান পুকুর গাছটা ফল পাকুড়টা ছিল। বর্ষা কালে পদ্মা র ইজারা নেওয়া হত গল্প শুনেছি।যত ইলিশ ধরা পড়ত সব বাড়িতে আসত।বাড়িতে মুরগি উঠত না।বাবার জন্য আলাদা করে উঠোনে উনুন করে মুরগি রান্না হত।বড় ছেলের স্পেশাল খাতির।সেসব হারানো দিনের কথা বাবা আমাকে একটি হাতে লেখা বই আকারে দিয়ে গেছেন।চশমা হারাই,চাবি হারাই।চশমার খাপ আরো বেশী হারাই,পেন ড্রাইভ হারাতে হারাতে জেরবার,পছন্দের শান্তিনিকেতনী রুমালটিও সেমিনারে র দিন কেমন করে হারিয়ে ফেললাম।তবে বাবার লেখা বইটি কিন্ত হারাই নি।তাতে দেশ হারানো ঘর হারানো একটি কিশোরের সুখ দুঃখ আজও ধরা আছে।সে গ্রামের স্কুলে পড়ত, নদীতে সাঁতার কাটত, দস্যিপনা করে বেড়াতো আপনমনে।তার দেখভাল করার দায়িত্বে ছিলেন এক লেঠেল।তাঁর নাম মইজুদদিন ভাই।তিনি তাকে সাঁতার শিখিয়েছিলেন।তিনি সামাল দিতেন ঐ কিশোরের সব দৌরাত্ম্য ।মাঝরাতে নৌকো থেকে ধরে আনা হোক বা গাছের ডাল থেকে নামিয়ে আনা।এমনকি লুকিয়ে কচ্ছপের মাংস খাওয়ার সঙ্গী ও তিনি। দেশভাগের সময় যখন এপারে আসার ভয়ংকর দিন এল,সেই মইজুদদিন ভাই ওই কিশোরকে হাফ প্যান্ট ছাড়িয়ে লুঙ্গি পরিয়ে কুখ্যাত সকরিগলি ঘাট পার করে দিয়েছিলেন।সেই অসময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব সুখদুঃখের সত্যি ঘটনা জড়িয়ে আছে।তাই আমার সাদাত মানতো বুঝতে এতটুকু অসুবিধে হয়নি।হারিয়ে যাওয়া ঢাকা লাহোর মুম্বই কলকাতা চোখের সামনে ছবির মতো।কর্কশ রক্তাক্ত নিষ্ঠুর দিন। তার মাঝেই লালিত সুকুমার মন।সেসব হারিয়ে গিয়েও ফিরে এল বুঝি!দেশভাগের অভিঘাত বড় সুদূরপ্রসারী।কোথায় কোন কোণে ওত পেতে বসে আছে গোপন প্রতিহিংসা কে জানে।তাদের উদ্দাম হিংসা এখন মহামারী র রূপ নিয়েছে । অস্থিরতার কথা থাক।স্থিরতা র কথা বলি।কৈশোরে হারিয়ে ছিলাম কলকাতাকে।বাবা বদলী হয়ে গেলেন কুচবিহার।অস্থির শহরকে ছেড়ে যেতে হয়েছিল শান্ত এক দীঘিময় মফস্বলে ।তখন মফস্বলের একটা নিজস্বতা ছিল।এখনকার মতো হাফ টিকিট না।সে ছিল রাজার শহর।ছোট ছোট একতলা বাড়ি ।সামনে বাগান।গাছপালা জড়ানো।কলকাতা, স্কুল, বন্ধু, পাড়া ,গানের স্কুল সব হারিয়ে আমি তখন বেজায় মনভারি ।হায়রে ।এখন অমন জায়গাতে থাকতে পারলে কি ভালো ই না হোতো।রাজার শহরে তখন হাতে গোণা দোতলা বাড়ি ।বেশী র ভাগ বাড়িতে টিনের চালের নীচে ছাউনি দেওয়া । সামনে পেছনে বাগান দেখে বাবা তো আত্মহারা ।পেছনের বাগানে নিজে মাটি ফেলে কপি ,কুমড়ো,টমেটো চাষ শুরু হল।টিনের চালের ওপর বৃষ্টি র শব্দ এখনো কানে আছে।হারায় নি।বারান্দা টি প্রশস্ত ।তাতে বাবা নিজে হাতে বাঁশের জাফরি বানিয়েছিলেন।চমৎকার লাগতো দেখতে।জাগরিত লতানো গাছ।খুব মায়াবী লাগতো টেবিল আলোতে।কিন্তু বারান্দা তে ব্যাং আসে।তাকে ধরতে আসে সাপ।মা আর আমি ভয়ে অস্থির ।ওখানকার লোক হাসে।দূর!ও তো হেলে সাপ।কাটে না।বাচ্চা রা হেলে সাপের লেজ ধরে ছুঁড়ে ফেলে।চেনা পৃথিবী এইভাবে পালটায়।নতুন স্কুল ।নতুন বন্ধু ।একেবারে আলাদা পরিবেশ।মানিয়ে নিতে সময় লাগে।বেশি গজগজ করলে মা বকুনি দেন।এখানেই ভাল রেজাল্ট করে দেখাও না!ফেলে আসা আজনমের শহর ,ফেলে আসা বেড়াল হাতছানি দেয়।তাকে অনেক চেষ্টা করেও আনা যায়নি।গাড়ি থেকে লাফ দিয়েছিল।পরে কত কেঁদে ফিরেছে ভেবে গলার কাছে ব্যথা করত। কিন্তু বাড়ির পিছনে মস্ত দীঘি ।তারপাশে একটা ছোট্ট কাঠের বাড়ি।সেখানে এক মা থাকেন তার দুই মেয়ে নিয়ে ।ছোটজন রাতুল আমার বন্ধু । ওদের ছোট কাঠের বাড়ি দেখে আমি মুগ্ধ ।বারান্দা য় সারি সারি অর্কিড ঝুলছে।বসার ঘরে বেতের সোফা ঘেঁষে ও অর্কিড ।বারান্দা তে দাঁড়িয়ে একটু পা বাড়ালে দিঘীর জল হাত বুলিয়ে যায়।ঠিক যেন রূপকথা।তারা হারিয়ে যায়।নতুন বন্ধুরা তদদিনে প্রাণের বন্ধু হয়ে গেছে।তাদের সঙ্গে প্রাণের আড্ডা মাঝে অনেকদিন হারিয়ে গেছিল।ফেবু র কল্যাণে ফেরত এসেছে।ফেরত এসেছে আমার হারিয়ে যাওয়া কলকাতা আর পুরনো বন্ধু দের অপার ভালবাসা।হারানো প্রাপ্তি নিরুদ্দেশ এই ফেবু তেই সম্ভব ।এত ফিরে পেয়ে ভাবি এই ঐশ্বর্য রাখব কোথায়?যা গেছে তা স্রোতে মিশে গেছে।যা আছে তা কম কি?ইটানগর বেড়াতে গিয়ে হারিয়েছিলাম খুব সুন্দর একটি flask. এত সুন্দর ছবি সচরাচর থাকে না।আঠারো ঘন্টা ভ্রমণ করে গাড়ি তে ফেলে এলাম ।মন খারাপ?না না! থাকলো না হয় আমার একটি ছোট জিনিস আমার দেশের এক কোণে কোন অচেনা বাড়িতে ।ঐ ভাবে ভাবলেই কিছু হারায় না।
ফুরায় যা তা ফুরায় শুধু চোখে কিছু হারিয়ে গেল গেল করাআমার স্বভাব বিরুদ্ধ কোনোরকম হাহাকার তেমন পোষায় না।বাবা বলতেন গেছে গেছে।বাঙাল ভাষায় গেসে গেসে।থোও।রাশি রাশি কলম হারানোর প্রেক্ষিতে এই উক্তি ।আসলে হারানোর গপপোটা কিছু বাকি থেকে গেছে।সেটি সেরে নিতে চাই । মেঘে ঢাকা তারা বা কোমল গান্ধার দেখার অনেক অনেক আগে,প্রায় জ্ঞান হতে হতেই ঠাকুমা,ছোট ঠাকুমা আর তাঁদের সমসাময়িকদের মধ্যে দেখেছি দেশ হারানোর বেদনা। সে যে কি হাহাকার তা অগুন্তি বাঙালি জানেন। অন্য দেশে এসে রিফিউজি হবার যন্ত্রণা ঢক করে গিলে ফেলা যায় না।সারাজীবন সেই শোকেতাপেই কাটিয়ে দিলেন, অন্য রকম করে কিছু ভাববার অবকাশ ই দিলেন না।এ নিয়ে অবশ্য ঘটিমহলে একটা চালু রসিকতা আছে .....বাঙালদের তো সবারই দেশে জমিদারি আসিল!! না।সকলের জমিদারি ছিল না বটে। কিন্তু ভাল করে খেয়ে পড়ে থাকার মত জমিজমা, বাগান পুকুর গাছটা ফল পাকুড়টা ছিল। বর্ষা কালে পদ্মা র ইজারা নেওয়া হত গল্প শুনেছি।যত ইলিশ ধরা পড়ত সব বাড়িতে আসত।বাড়িতে মুরগি উঠত না।বাবার জন্য আলাদা করে উঠোনে উনুন করে মুরগি রান্না হত।বড় ছেলের স্পেশাল খাতির।সেসব হারানো দিনের কথা বাবা আমাকে একটি হাতে লেখা বই আকারে দিয়ে গেছেন।চশমা হারাই,চাবি হারাই।চশমার খাপ আরো বেশী হারাই,পেন ড্রাইভ হারাতে হারাতে জেরবার,পছন্দের শান্তিনিকেতনী রুমালটিও সেমিনারে র দিন কেমন করে হারিয়ে ফেললাম।তবে বাবার লেখা বইটি কিন্ত হারাই নি।তাতে দেশ হারানো ঘর হারানো একটি কিশোরের সুখ দুঃখ আজও ধরা আছে।সে গ্রামের স্কুলে পড়ত, নদীতে সাঁতার কাটত, দস্যিপনা করে বেড়াতো আপনমনে।তার দেখভাল করার দায়িত্বে ছিলেন এক লেঠেল।তাঁর নাম মইজুদদিন ভাই।তিনি তাকে সাঁতার শিখিয়েছিলেন।তিনি সামাল দিতেন ঐ কিশোরের সব দৌরাত্ম্য ।মাঝরাতে নৌকো থেকে ধরে আনা হোক বা গাছের ডাল থেকে নামিয়ে আনা।এমনকি লুকিয়ে কচ্ছপের মাংস খাওয়ার সঙ্গী ও তিনি। দেশভাগের সময় যখন এপারে আসার ভয়ংকর দিন এল,সেই মইজুদদিন ভাই ওই কিশোরকে হাফ প্যান্ট ছাড়িয়ে লুঙ্গি পরিয়ে কুখ্যাত সকরিগলি ঘাট পার করে দিয়েছিলেন।সেই অসময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব সুখদুঃখের সত্যি ঘটনা জড়িয়ে আছে।তাই আমার সাদাত মানতো বুঝতে এতটুকু অসুবিধে হয়নি।হারিয়ে যাওয়া ঢাকা লাহোর মুম্বই কলকাতা চোখের সামনে ছবির মতো।কর্কশ রক্তাক্ত নিষ্ঠুর দিন। তার মাঝেই লালিত সুকুমার মন।সেসব হারিয়ে গিয়েও ফিরে এল বুঝি!দেশভাগের অভিঘাত বড় সুদূরপ্রসারী।কোথায় কোন কোণে ওত পেতে বসে আছে গোপন প্রতিহিংসা কে জানে।তাদের উদ্দাম হিংসা এখন মহামারী র রূপ নিয়েছে । অস্থিরতার কথা থাক।স্থিরতা র কথা বলি।কৈশোরে হারিয়ে ছিলাম কলকাতাকে।বাবা বদলী হয়ে গেলেন কুচবিহার।অস্থির শহরকে ছেড়ে যেতে হয়েছিল শান্ত এক দীঘিময় মফস্বলে ।তখন মফস্বলের একটা নিজস্বতা ছিল।এখনকার মতো হাফ টিকিট না।সে ছিল রাজার শহর।ছোট ছোট একতলা বাড়ি ।সামনে বাগান।গাছপালা জড়ানো।কলকাতা, স্কুল, বন্ধু, পাড়া ,গানের স্কুল সব হারিয়ে আমি তখন বেজায় মনভারি ।হায়রে ।এখন অমন জায়গাতে থাকতে পারলে কি ভালো ই না হোতো।রাজার শহরে তখন হাতে গোণা দোতলা বাড়ি ।বেশী র ভাগ বাড়িতে টিনের চালের নীচে ছাউনি দেওয়া । সামনে পেছনে বাগান দেখে বাবা তো আত্মহারা ।পেছনের বাগানে নিজে মাটি ফেলে কপি ,কুমড়ো,টমেটো চাষ শুরু হল।টিনের চালের ওপর বৃষ্টি র শব্দ এখনো কানে আছে।হারায় নি।বারান্দা টি প্রশস্ত ।তাতে বাবা নিজে হাতে বাঁশের জাফরি বানিয়েছিলেন।চমৎকার লাগতো দেখতে।জাগরিত লতানো গাছ।খুব মায়াবী লাগতো টেবিল আলোতে।কিন্তু বারান্দা তে ব্যাং আসে।তাকে ধরতে আসে সাপ।মা আর আমি ভয়ে অস্থির ।ওখানকার লোক হাসে।দূর!ও তো হেলে সাপ।কাটে না।বাচ্চা রা হেলে সাপের লেজ ধরে ছুঁড়ে ফেলে।চেনা পৃথিবী এইভাবে পালটায়।নতুন স্কুল ।নতুন বন্ধু ।একেবারে আলাদা পরিবেশ।মানিয়ে নিতে সময় লাগে।বেশি গজগজ করলে মা বকুনি দেন।এখানেই ভাল রেজাল্ট করে দেখাও না!ফেলে আসা আজনমের শহর ,ফেলে আসা বেড়াল হাতছানি দেয়।তাকে অনেক চেষ্টা করেও আনা যায়নি।গাড়ি থেকে লাফ দিয়েছিল।পরে কত কেঁদে ফিরেছে ভেবে গলার কাছে ব্যথা করত। কিন্তু বাড়ির পিছনে মস্ত দীঘি ।তারপাশে একটা ছোট্ট কাঠের বাড়ি।সেখানে এক মা থাকেন তার দুই মেয়ে নিয়ে ।ছোটজন রাতুল আমার বন্ধু । ওদের ছোট কাঠের বাড়ি দেখে আমি মুগ্ধ ।বারান্দা য় সারি সারি অর্কিড ঝুলছে।বসার ঘরে বেতের সোফা ঘেঁষে ও অর্কিড ।বারান্দা তে দাঁড়িয়ে একটু পা বাড়ালে দিঘীর জল হাত বুলিয়ে যায়।ঠিক যেন রূপকথা।তারা হারিয়ে যায়।নতুন বন্ধুরা তদদিনে প্রাণের বন্ধু হয়ে গেছে।তাদের সঙ্গে প্রাণের আড্ডা মাঝে অনেকদিন হারিয়ে গেছিল।ফেবু র কল্যাণে ফেরত এসেছে।ফেরত এসেছে আমার হারিয়ে যাওয়া কলকাতা আর পুরনো বন্ধু দের অপার ভালবাসা।হারানো প্রাপ্তি নিরুদ্দেশ এই ফেবু তেই সম্ভব ।এত ফিরে পেয়ে ভাবি এই ঐশ্বর্য রাখব কোথায়?যা গেছে তা স্রোতে মিশে গেছে।যা আছে তা কম কি?ইটানগর বেড়াতে গিয়ে হারিয়েছিলাম খুব সুন্দর একটি flask. এত সুন্দর ছবি সচরাচর থাকে না।আঠারো ঘন্টা ভ্রমণ করে গাড়ি তে ফেলে এলাম ।মন খারাপ?না না! থাকলো না হয় আমার একটি ছোট জিনিস আমার দেশের এক কোণে কোন অচেনা বাড়িতে ।ঐ ভাবে ভাবলেই কিছু হারায় না।