Thursday, 21 July 2016
ফুরায় যা তা ফুরায় শুধু চোখে
কিছু হারিয়ে গেল গেল করাআমার স্বভাব বিরুদ্ধ কোনোরকম হাহাকার তেমন পোষায় না।বাবা বলতেন গেছে গেছে।বাঙাল ভাষায় গেসে গেসে।থোও।রাশি রাশি কলম হারানোর প্রেক্ষিতে এই উক্তি ।আসলে হারানোর গপপোটা কিছু বাকি থেকে গেছে।সেটি সেরে নিতে চাই ।
মেঘে ঢাকা তারা বা কোমল গান্ধার দেখার অনেক অনেক আগে,প্রায় জ্ঞান হতে হতেই ঠাকুমা,ছোট ঠাকুমা আর তাঁদের সমসাময়িকদের মধ্যে দেখেছি দেশ হারানোর বেদনা। সে যে কি হাহাকার তা অগুন্তি বাঙালি জানেন। অন্য দেশে এসে রিফিউজি হবার যন্ত্রণা ঢক করে গিলে ফেলা যায় না।সারাজীবন সেই শোকেতাপেই কাটিয়ে দিলেন, অন্য রকম করে কিছু ভাববার অবকাশ ই দিলেন না।এ নিয়ে অবশ্য ঘটিমহলে একটা চালু রসিকতা আছে .....বাঙালদের তো সবারই দেশে জমিদারি আসিল!!
না।সকলের জমিদারি ছিল না বটে। কিন্তু ভাল করে খেয়ে পড়ে থাকার মত জমিজমা, বাগান পুকুর গাছটা ফল পাকুড়টা ছিল। বর্ষা কালে পদ্মা র ইজারা নেওয়া হত গল্প শুনেছি।যত ইলিশ ধরা পড়ত সব বাড়িতে আসত।বাড়িতে মুরগি উঠত না।বাবার জন্য আলাদা করে উঠোনে উনুন করে মুরগি রান্না হত।বড় ছেলের স্পেশাল খাতির।সেসব হারানো দিনের কথা বাবা আমাকে একটি হাতে লেখা বই আকারে দিয়ে গেছেন।চশমা হারাই,চাবি হারাই।চশমার খাপ আরো বেশী হারাই,পেন ড্রাইভ হারাতে হারাতে জেরবার,পছন্দের শান্তিনিকেতনী রুমালটিও সেমিনারে র দিন কেমন করে হারিয়ে ফেললাম।তবে বাবার লেখা বইটি কিন্ত হারাই নি।তাতে দেশ হারানো ঘর হারানো একটি কিশোরের সুখ দুঃখ আজও ধরা আছে।সে গ্রামের স্কুলে পড়ত, নদীতে সাঁতার কাটত, দস্যিপনা করে বেড়াতো আপনমনে।তার দেখভাল করার দায়িত্বে ছিলেন এক লেঠেল।তাঁর নাম মইজুদদিন ভাই।তিনি তাকে সাঁতার শিখিয়েছিলেন।তিনি সামাল দিতেন ঐ কিশোরের সব দৌরাত্ম্য ।মাঝরাতে নৌকো থেকে ধরে আনা হোক বা গাছের ডাল থেকে নামিয়ে আনা।এমনকি লুকিয়ে কচ্ছপের মাংস খাওয়ার সঙ্গী ও তিনি। দেশভাগের সময় যখন এপারে আসার ভয়ংকর দিন এল,সেই মইজুদদিন ভাই ওই কিশোরকে হাফ প্যান্ট ছাড়িয়ে লুঙ্গি পরিয়ে কুখ্যাত সকরিগলি ঘাট পার করে দিয়েছিলেন।সেই অসময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব সুখদুঃখের সত্যি ঘটনা জড়িয়ে আছে।তাই আমার সাদাত মানতো বুঝতে এতটুকু অসুবিধে হয়নি।হারিয়ে যাওয়া ঢাকা লাহোর মুম্বই কলকাতা চোখের সামনে ছবির মতো।কর্কশ রক্তাক্ত নিষ্ঠুর দিন। তার মাঝেই লালিত সুকুমার মন।সেসব হারিয়ে গিয়েও ফিরে এল বুঝি!দেশভাগের অভিঘাত বড় সুদূরপ্রসারী।কোথায় কোন কোণে ওত পেতে বসে আছে গোপন প্রতিহিংসা কে জানে।তাদের উদ্দাম হিংসা এখন মহামারী র রূপ নিয়েছে ।
অস্থিরতার কথা থাক।স্থিরতা র কথা বলি।কৈশোরে হারিয়ে ছিলাম কলকাতাকে।বাবা বদলী হয়ে গেলেন কুচবিহার।অস্থির শহরকে ছেড়ে যেতে হয়েছিল শান্ত এক দীঘিময় মফস্বলে ।তখন মফস্বলের একটা নিজস্বতা ছিল।এখনকার মতো হাফ টিকিট না।সে ছিল রাজার শহর।ছোট ছোট একতলা বাড়ি ।সামনে বাগান।গাছপালা জড়ানো।কলকাতা, স্কুল, বন্ধু, পাড়া ,গানের স্কুল সব হারিয়ে আমি তখন বেজায় মনভারি ।হায়রে ।এখন অমন জায়গাতে থাকতে পারলে কি ভালো ই না হোতো।রাজার শহরে তখন হাতে গোণা দোতলা বাড়ি ।বেশী র ভাগ বাড়িতে টিনের চালের নীচে ছাউনি দেওয়া । সামনে পেছনে বাগান দেখে বাবা তো আত্মহারা ।পেছনের বাগানে নিজে মাটি ফেলে কপি ,কুমড়ো,টমেটো চাষ শুরু হল।টিনের চালের ওপর বৃষ্টি র শব্দ এখনো কানে আছে।হারায় নি।বারান্দা টি প্রশস্ত ।তাতে বাবা নিজে হাতে বাঁশের জাফরি বানিয়েছিলেন।চমৎকার লাগতো দেখতে।জাগরিত লতানো গাছ।খুব মায়াবী লাগতো টেবিল আলোতে।কিন্তু বারান্দা তে ব্যাং আসে।তাকে ধরতে আসে সাপ।মা আর আমি ভয়ে অস্থির ।ওখানকার লোক হাসে।দূর!ও তো হেলে সাপ।কাটে না।বাচ্চা রা হেলে সাপের লেজ ধরে ছুঁড়ে ফেলে।চেনা পৃথিবী এইভাবে পালটায়।নতুন স্কুল ।নতুন বন্ধু ।একেবারে আলাদা পরিবেশ।মানিয়ে নিতে সময় লাগে।বেশি গজগজ করলে মা বকুনি দেন।এখানেই ভাল রেজাল্ট করে দেখাও না!ফেলে আসা আজনমের শহর ,ফেলে আসা বেড়াল হাতছানি দেয়।তাকে অনেক চেষ্টা করেও আনা যায়নি।গাড়ি থেকে লাফ দিয়েছিল।পরে কত কেঁদে ফিরেছে ভেবে গলার কাছে ব্যথা করত। কিন্তু বাড়ির পিছনে মস্ত দীঘি ।তারপাশে একটা ছোট্ট কাঠের বাড়ি।সেখানে এক মা থাকেন তার দুই মেয়ে নিয়ে ।ছোটজন রাতুল আমার বন্ধু । ওদের ছোট কাঠের বাড়ি দেখে আমি মুগ্ধ ।বারান্দা য় সারি সারি অর্কিড ঝুলছে।বসার ঘরে বেতের সোফা ঘেঁষে ও অর্কিড ।বারান্দা তে দাঁড়িয়ে একটু পা বাড়ালে দিঘীর জল হাত বুলিয়ে যায়।ঠিক যেন রূপকথা।তারা হারিয়ে যায়।নতুন বন্ধুরা তদদিনে প্রাণের বন্ধু হয়ে গেছে।তাদের সঙ্গে প্রাণের আড্ডা মাঝে অনেকদিন হারিয়ে গেছিল।ফেবু র কল্যাণে ফেরত এসেছে।ফেরত এসেছে আমার হারিয়ে যাওয়া কলকাতা আর পুরনো বন্ধু দের অপার ভালবাসা।হারানো প্রাপ্তি নিরুদ্দেশ এই ফেবু তেই সম্ভব ।এত ফিরে পেয়ে ভাবি এই ঐশ্বর্য রাখব কোথায়?যা গেছে তা স্রোতে মিশে গেছে।যা আছে তা কম কি?ইটানগর বেড়াতে গিয়ে হারিয়েছিলাম খুব সুন্দর একটি flask. এত সুন্দর ছবি সচরাচর থাকে না।আঠারো ঘন্টা ভ্রমণ করে গাড়ি তে ফেলে এলাম ।মন খারাপ?না না! থাকলো না হয় আমার একটি ছোট জিনিস আমার দেশের এক কোণে কোন অচেনা বাড়িতে ।ঐ ভাবে ভাবলেই কিছু হারায় না।
ফুরায় যা তা ফুরায় শুধু চোখে
কিছু হারিয়ে গেল গেল করাআমার স্বভাব বিরুদ্ধ কোনোরকম হাহাকার তেমন পোষায় না।বাবা বলতেন গেছে গেছে।বাঙাল ভাষায় গেসে গেসে।থোও।রাশি রাশি কলম হারানোর প্রেক্ষিতে এই উক্তি ।আসলে হারানোর গপপোটা কিছু বাকি থেকে গেছে।সেটি সেরে নিতে চাই ।
মেঘে ঢাকা তারা বা কোমল গান্ধার দেখার অনেক অনেক আগে,প্রায় জ্ঞান হতে হতেই ঠাকুমা,ছোট ঠাকুমা আর তাঁদের সমসাময়িকদের মধ্যে দেখেছি দেশ হারানোর বেদনা। সে যে কি হাহাকার তা অগুন্তি বাঙালি জানেন। অন্য দেশে এসে রিফিউজি হবার যন্ত্রণা ঢক করে গিলে ফেলা যায় না।সারাজীবন সেই শোকেতাপেই কাটিয়ে দিলেন, অন্য রকম করে কিছু ভাববার অবকাশ ই দিলেন না।এ নিয়ে অবশ্য ঘটিমহলে একটা চালু রসিকতা আছে .....বাঙালদের তো সবারই দেশে জমিদারি আসিল!!
না।সকলের জমিদারি ছিল না বটে। কিন্তু ভাল করে খেয়ে পড়ে থাকার মত জমিজমা, বাগান পুকুর গাছটা ফল পাকুড়টা ছিল। বর্ষা কালে পদ্মা র ইজারা নেওয়া হত গল্প শুনেছি।যত ইলিশ ধরা পড়ত সব বাড়িতে আসত।বাড়িতে মুরগি উঠত না।বাবার জন্য আলাদা করে উঠোনে উনুন করে মুরগি রান্না হত।বড় ছেলের স্পেশাল খাতির।সেসব হারানো দিনের কথা বাবা আমাকে একটি হাতে লেখা বই আকারে দিয়ে গেছেন।চশমা হারাই,চাবি হারাই।চশমার খাপ আরো বেশী হারাই,পেন ড্রাইভ হারাতে হারাতে জেরবার,পছন্দের শান্তিনিকেতনী রুমালটিও সেমিনারে র দিন কেমন করে হারিয়ে ফেললাম।তবে বাবার লেখা বইটি কিন্ত হারাই নি।তাতে দেশ হারানো ঘর হারানো একটি কিশোরের সুখ দুঃখ আজও ধরা আছে।সে গ্রামের স্কুলে পড়ত, নদীতে সাঁতার কাটত, দস্যিপনা করে বেড়াতো আপনমনে।তার দেখভাল করার দায়িত্বে ছিলেন এক লেঠেল।তাঁর নাম মইজুদদিন ভাই।তিনি তাকে সাঁতার শিখিয়েছিলেন।তিনি সামাল দিতেন ঐ কিশোরের সব দৌরাত্ম্য ।মাঝরাতে নৌকো থেকে ধরে আনা হোক বা গাছের ডাল থেকে নামিয়ে আনা।এমনকি লুকিয়ে কচ্ছপের মাংস খাওয়ার সঙ্গী ও তিনি। দেশভাগের সময় যখন এপারে আসার ভয়ংকর দিন এল,সেই মইজুদদিন ভাই ওই কিশোরকে হাফ প্যান্ট ছাড়িয়ে লুঙ্গি পরিয়ে কুখ্যাত সকরিগলি ঘাট পার করে দিয়েছিলেন।সেই অসময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব সুখদুঃখের সত্যি ঘটনা জড়িয়ে আছে।তাই আমার সাদাত মানতো বুঝতে এতটুকু অসুবিধে হয়নি।হারিয়ে যাওয়া ঢাকা লাহোর মুম্বই কলকাতা চোখের সামনে ছবির মতো।কর্কশ রক্তাক্ত নিষ্ঠুর দিন। তার মাঝেই লালিত সুকুমার মন।সেসব হারিয়ে গিয়েও ফিরে এল বুঝি!দেশভাগের অভিঘাত বড় সুদূরপ্রসারী।কোথায় কোন কোণে ওত পেতে বসে আছে গোপন প্রতিহিংসা কে জানে।তাদের উদ্দাম হিংসা এখন মহামারী র রূপ নিয়েছে ।
অস্থিরতার কথা থাক।স্থিরতা র কথা বলি।কৈশোরে হারিয়ে ছিলাম কলকাতাকে।বাবা বদলী হয়ে গেলেন কুচবিহার।অস্থির শহরকে ছেড়ে যেতে হয়েছিল শান্ত এক দীঘিময় মফস্বলে ।তখন মফস্বলের একটা নিজস্বতা ছিল।এখনকার মতো হাফ টিকিট না।সে ছিল রাজার শহর।ছোট ছোট একতলা বাড়ি ।সামনে বাগান।গাছপালা জড়ানো।কলকাতা, স্কুল, বন্ধু, পাড়া ,গানের স্কুল সব হারিয়ে আমি তখন বেজায় মনভারি ।হায়রে ।এখন অমন জায়গাতে থাকতে পারলে কি ভালো ই না হোতো।রাজার শহরে তখন হাতে গোণা দোতলা বাড়ি ।বেশী র ভাগ বাড়িতে টিনের চালের নীচে ছাউনি দেওয়া । সামনে পেছনে বাগান দেখে বাবা তো আত্মহারা ।পেছনের বাগানে নিজে মাটি ফেলে কপি ,কুমড়ো,টমেটো চাষ শুরু হল।টিনের চালের ওপর বৃষ্টি র শব্দ এখনো কানে আছে।হারায় নি।বারান্দা টি প্রশস্ত ।তাতে বাবা নিজে হাতে বাঁশের জাফরি বানিয়েছিলেন।চমৎকার লাগতো দেখতে।জাগরিত লতানো গাছ।খুব মায়াবী লাগতো টেবিল আলোতে।কিন্তু বারান্দা তে ব্যাং আসে।তাকে ধরতে আসে সাপ।মা আর আমি ভয়ে অস্থির ।ওখানকার লোক হাসে।দূর!ও তো হেলে সাপ।কাটে না।বাচ্চা রা হেলে সাপের লেজ ধরে ছুঁড়ে ফেলে।চেনা পৃথিবী এইভাবে পালটায়।নতুন স্কুল ।নতুন বন্ধু ।একেবারে আলাদা পরিবেশ।মানিয়ে নিতে সময় লাগে।বেশি গজগজ করলে মা বকুনি দেন।এখানেই ভাল রেজাল্ট করে দেখাও না!ফেলে আসা আজনমের শহর ,ফেলে আসা বেড়াল হাতছানি দেয়।তাকে অনেক চেষ্টা করেও আনা যায়নি।গাড়ি থেকে লাফ দিয়েছিল।পরে কত কেঁদে ফিরেছে ভেবে গলার কাছে ব্যথা করত। কিন্তু বাড়ির পিছনে মস্ত দীঘি ।তারপাশে একটা ছোট্ট কাঠের বাড়ি।সেখানে এক মা থাকেন তার দুই মেয়ে নিয়ে ।ছোটজন রাতুল আমার বন্ধু । ওদের ছোট কাঠের বাড়ি দেখে আমি মুগ্ধ ।বারান্দা য় সারি সারি অর্কিড ঝুলছে।বসার ঘরে বেতের সোফা ঘেঁষে ও অর্কিড ।বারান্দা তে দাঁড়িয়ে একটু পা বাড়ালে দিঘীর জল হাত বুলিয়ে যায়।ঠিক যেন রূপকথা।তারা হারিয়ে যায়।নতুন বন্ধুরা তদদিনে প্রাণের বন্ধু হয়ে গেছে।তাদের সঙ্গে প্রাণের আড্ডা মাঝে অনেকদিন হারিয়ে গেছিল।ফেবু র কল্যাণে ফেরত এসেছে।ফেরত এসেছে আমার হারিয়ে যাওয়া কলকাতা আর পুরনো বন্ধু দের অপার ভালবাসা।হারানো প্রাপ্তি নিরুদ্দেশ এই ফেবু তেই সম্ভব ।এত ফিরে পেয়ে ভাবি এই ঐশ্বর্য রাখব কোথায়?যা গেছে তা স্রোতে মিশে গেছে।যা আছে তা কম কি?ইটানগর বেড়াতে গিয়ে হারিয়েছিলাম খুব সুন্দর একটি flask. এত সুন্দর ছবি সচরাচর থাকে না।আঠারো ঘন্টা ভ্রমণ করে গাড়ি তে ফেলে এলাম ।মন খারাপ?না না! থাকলো না হয় আমার একটি ছোট জিনিস আমার দেশের এক কোণে কোন অচেনা বাড়িতে ।ঐ ভাবে ভাবলেই কিছু হারায় না।
ফুরায় যা তা ফুরায় শুধু চোখে
কিছু হারিয়ে গেল গেল করাআমার স্বভাব বিরুদ্ধ কোনোরকম হাহাকার তেমন পোষায় না।বাবা বলতেন গেছে গেছে।বাঙাল ভাষায় গেসে গেসে।থোও।রাশি রাশি কলম হারানোর প্রেক্ষিতে এই উক্তি ।আসলে হারানোর গপপোটা কিছু বাকি থেকে গেছে।সেটি সেরে নিতে চাই ।
মেঘে ঢাকা তারা বা কোমল গান্ধার দেখার অনেক অনেক আগে,প্রায় জ্ঞান হতে হতেই ঠাকুমা,ছোট ঠাকুমা আর তাঁদের সমসাময়িকদের মধ্যে দেখেছি দেশ হারানোর বেদনা। সে যে কি হাহাকার তা অগুন্তি বাঙালি জানেন। অন্য দেশে এসে রিফিউজি হবার যন্ত্রণা ঢক করে গিলে ফেলা যায় না।সারাজীবন সেই শোকেতাপেই কাটিয়ে দিলেন, অন্য রকম করে কিছু ভাববার অবকাশ ই দিলেন না।এ নিয়ে অবশ্য ঘটিমহলে একটা চালু রসিকতা আছে .....বাঙালদের তো সবারই দেশে জমিদারি আসিল!!
না।সকলের জমিদারি ছিল না বটে। কিন্তু ভাল করে খেয়ে পড়ে থাকার মত জমিজমা, বাগান পুকুর গাছটা ফল পাকুড়টা ছিল। বর্ষা কালে পদ্মা র ইজারা নেওয়া হত গল্প শুনেছি।যত ইলিশ ধরা পড়ত সব বাড়িতে আসত।বাড়িতে মুরগি উঠত না।বাবার জন্য আলাদা করে উঠোনে উনুন করে মুরগি রান্না হত।বড় ছেলের স্পেশাল খাতির।সেসব হারানো দিনের কথা বাবা আমাকে একটি হাতে লেখা বই আকারে দিয়ে গেছেন।চশমা হারাই,চাবি হারাই।চশমার খাপ আরো বেশী হারাই,পেন ড্রাইভ হারাতে হারাতে জেরবার,পছন্দের শান্তিনিকেতনী রুমালটিও সেমিনারে র দিন কেমন করে হারিয়ে ফেললাম।তবে বাবার লেখা বইটি কিন্ত হারাই নি।তাতে দেশ হারানো ঘর হারানো একটি কিশোরের সুখ দুঃখ আজও ধরা আছে।সে গ্রামের স্কুলে পড়ত, নদীতে সাঁতার কাটত, দস্যিপনা করে বেড়াতো আপনমনে।তার দেখভাল করার দায়িত্বে ছিলেন এক লেঠেল।তাঁর নাম মইজুদদিন ভাই।তিনি তাকে সাঁতার শিখিয়েছিলেন।তিনি সামাল দিতেন ঐ কিশোরের সব দৌরাত্ম্য ।মাঝরাতে নৌকো থেকে ধরে আনা হোক বা গাছের ডাল থেকে নামিয়ে আনা।এমনকি লুকিয়ে কচ্ছপের মাংস খাওয়ার সঙ্গী ও তিনি। দেশভাগের সময় যখন এপারে আসার ভয়ংকর দিন এল,সেই মইজুদদিন ভাই ওই কিশোরকে হাফ প্যান্ট ছাড়িয়ে লুঙ্গি পরিয়ে কুখ্যাত সকরিগলি ঘাট পার করে দিয়েছিলেন।সেই অসময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব সুখদুঃখের সত্যি ঘটনা জড়িয়ে আছে।তাই আমার সাদাত মানতো বুঝতে এতটুকু অসুবিধে হয়নি।হারিয়ে যাওয়া ঢাকা লাহোর মুম্বই কলকাতা চোখের সামনে ছবির মতো।কর্কশ রক্তাক্ত নিষ্ঠুর দিন। তার মাঝেই লালিত সুকুমার মন।সেসব হারিয়ে গিয়েও ফিরে এল বুঝি!দেশভাগের অভিঘাত বড় সুদূরপ্রসারী।কোথায় কোন কোণে ওত পেতে বসে আছে গোপন প্রতিহিংসা কে জানে।তাদের উদ্দাম হিংসা এখন মহামারী র রূপ নিয়েছে ।
অস্থিরতার কথা থাক।স্থিরতা র কথা বলি।কৈশোরে হারিয়ে ছিলাম কলকাতাকে।বাবা বদলী হয়ে গেলেন কুচবিহার।অস্থির শহরকে ছেড়ে যেতে হয়েছিল শান্ত এক দীঘিময় মফস্বলে ।তখন মফস্বলের একটা নিজস্বতা ছিল।এখনকার মতো হাফ টিকিট না।সে ছিল রাজার শহর।ছোট ছোট একতলা বাড়ি ।সামনে বাগান।গাছপালা জড়ানো।কলকাতা, স্কুল, বন্ধু, পাড়া ,গানের স্কুল সব হারিয়ে আমি তখন বেজায় মনভারি ।হায়রে ।এখন অমন জায়গাতে থাকতে পারলে কি ভালো ই না হোতো।রাজার শহরে তখন হাতে গোণা দোতলা বাড়ি ।বেশী র ভাগ বাড়িতে টিনের চালের নীচে ছাউনি দেওয়া । সামনে পেছনে বাগান দেখে বাবা তো আত্মহারা ।পেছনের বাগানে নিজে মাটি ফেলে কপি ,কুমড়ো,টমেটো চাষ শুরু হল।টিনের চালের ওপর বৃষ্টি র শব্দ এখনো কানে আছে।হারায় নি।বারান্দা টি প্রশস্ত ।তাতে বাবা নিজে হাতে বাঁশের জাফরি বানিয়েছিলেন।চমৎকার লাগতো দেখতে।জাগরিত লতানো গাছ।খুব মায়াবী লাগতো টেবিল আলোতে।কিন্তু বারান্দা তে ব্যাং আসে।তাকে ধরতে আসে সাপ।মা আর আমি ভয়ে অস্থির ।ওখানকার লোক হাসে।দূর!ও তো হেলে সাপ।কাটে না।বাচ্চা রা হেলে সাপের লেজ ধরে ছুঁড়ে ফেলে।চেনা পৃথিবী এইভাবে পালটায়।নতুন স্কুল ।নতুন বন্ধু ।একেবারে আলাদা পরিবেশ।মানিয়ে নিতে সময় লাগে।বেশি গজগজ করলে মা বকুনি দেন।এখানেই ভাল রেজাল্ট করে দেখাও না!ফেলে আসা আজনমের শহর ,ফেলে আসা বেড়াল হাতছানি দেয়।তাকে অনেক চেষ্টা করেও আনা যায়নি।গাড়ি থেকে লাফ দিয়েছিল।পরে কত কেঁদে ফিরেছে ভেবে গলার কাছে ব্যথা করত। কিন্তু বাড়ির পিছনে মস্ত দীঘি ।তারপাশে একটা ছোট্ট কাঠের বাড়ি।সেখানে এক মা থাকেন তার দুই মেয়ে নিয়ে ।ছোটজন রাতুল আমার বন্ধু । ওদের ছোট কাঠের বাড়ি দেখে আমি মুগ্ধ ।বারান্দা য় সারি সারি অর্কিড ঝুলছে।বসার ঘরে বেতের সোফা ঘেঁষে ও অর্কিড ।বারান্দা তে দাঁড়িয়ে একটু পা বাড়ালে দিঘীর জল হাত বুলিয়ে যায়।ঠিক যেন রূপকথা।তারা হারিয়ে যায়।নতুন বন্ধুরা তদদিনে প্রাণের বন্ধু হয়ে গেছে।তাদের সঙ্গে প্রাণের আড্ডা মাঝে অনেকদিন হারিয়ে গেছিল।ফেবু র কল্যাণে ফেরত এসেছে।ফেরত এসেছে আমার হারিয়ে যাওয়া কলকাতা আর পুরনো বন্ধু দের অপার ভালবাসা।হারানো প্রাপ্তি নিরুদ্দেশ এই ফেবু তেই সম্ভব ।এত ফিরে পেয়ে ভাবি এই ঐশ্বর্য রাখব কোথায়?যা গেছে তা স্রোতে মিশে গেছে।যা আছে তা কম কি?ইটানগর বেড়াতে গিয়ে হারিয়েছিলাম খুব সুন্দর একটি flask. এত সুন্দর ছবি সচরাচর থাকে না।আঠারো ঘন্টা ভ্রমণ করে গাড়ি তে ফেলে এলাম ।মন খারাপ?না না! থাকলো না হয় আমার একটি ছোট জিনিস আমার দেশের এক কোণে কোন অচেনা বাড়িতে ।ঐ ভাবে ভাবলেই কিছু হারায় না।
যা হারিয়ে যায়
জীবনের দৌলতে জানতে পারছি মানুষ বড়ো অভিমানী হয়ে যাচ্ছে ।একা একা বোধ করছে আর কষ্ট পাচ্ছে ।বোধহয় কিছু হারিয়ে ফেলছে বলে ভয় পেয়ে ঠোঁট ফোলাচছে প্রতি নিয়ত ।কত ছোট ছোট ছেলেমেয়ে দুঃখ পেয়ে পোষ্ট দিচ্ছে হারানো বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে।আহা।তারা হোয়াট স আপ খুলে দেখেন হারানো বন্ধু কিছু লিখলো কিনা।না পেয়ে মন ভারী করে ফেবু তে বিরহের বা বিদ্বেষের রাগী পোষ্ট জারি করেন।সে সব জ্বালাময় লিখন স্রোতের মত ফেবুতে ভাসে।কেউ মনে রাখে না।হারিয়ে যাবার খেলা না বুঝতে পারলে জীবনে বিস্তর দুঃখু ।
এই তো যেমন পুরনো আজন্ম চেনা পাড়াতে ঢুকতে গিয়ে চমকে গেলাম।গড়িয়াহাটের বাম হাতি গলিতে পাও চেন চীনে রেঁসতরা কে বাঁয়ে রেখে সোজা তাকালে দেখতাম একটা মস্ত লম্বা বাড়ি।সাদা।তার দুদিক থেকে উঠে গেছে লম্বা ক্রিপার।ওপরে গিয়ে চূড়া বেঁধেছে।ও বাড়ি দেখে ছোটবেলা তে জেঠুর বাড়ির রাস্তা চিনতাম ।তার ডাইনে গেলে আচার্য সুনীতি কুমারের বাড়ি সুধর্মা যা কিনা বেশ কয়েকটি বছর ধরে fab India হয়েছে।লম্বা অভিজাত চেহারার সাদা বাড়িটা যার জানলা দরজা খোলা দেখিনি কখোনো ইদানিং একটি take away food joint এর সাইন বোর্ড ঝুলিয়েছিল বটে।সেকি তার আভিজাত্য হারাচছিল না অর্থ কৌলীন্য? নিশ্চয়ই দরকার পড়েছে।তাই ভেঙে পড়েছে বাড়ি।কাটা পড়েছে নীচ থেকে উঠে যাওয়া দুধারে দুটি লতানো গাছ।হারিয়ে গেল আমার ছোটবেলার পথচেনার স্মারক গৃহটি। অবশ্য এখন পথচেনার জন্য আমার তাকে দরকার হত না।অভ্যস্ত চোখে তাকাতাম।সেই তাকানোর মধ্যে একটু মেদুরতা থাকতো।হারিয়ে গেল।আবার এই চেহারা চেনা হয়ে যাবে কিছুদিনে।কিন্তু পুরোনো বাড়িটি বুকের মধ্যে ডানা ঝাপটাবে চিরকাল।
দক্ষিণাপণে ঢুকে দেখি ওমা।উঠে গেছে একদম সামনে গানের আর ছায়াছবি র সিডির চেনা দোকানখানা।কত সিডি কিনেছি সেখান থেকে! ক্লান্ত শরীরে এসে গানের কাছে আশ্রয় খুঁজেছি।পাশ্চাত্য ধ্রুপদী বাজনার ভাল সংগ্রহ ছিল ওঁদের।হারিয়ে গেল।দেখলাম সেখানে বাচ্চা দের পোষাকের দোকান হয়েছে।ওই গানের স্টলের কর্মচারীরা গেলেন কোথা?যেন নতুন কাজকর্মে ভাল থাকেন।
এই হারানো আর খুঁজে পাওয়া র খেলা তে কত পুরোনো বন্ধু দের ফিরে পেলাম! কখনো ভাবিনি এদের আবার ফিরে পাবো!আর যা ফিরে পাওয়া যাবে না কোনমতে? স্টেশনে আমি এখন দেরী করে ঢুকি।ট্রেন ছাড়ার সামান্য আগে।বেশ কয়েকটি বছর আগে এক মা তাঁর মেয়েটিকে নিয়ে স্টেশনে আসতেন ট্রেন ছাড়ার অন্তত দু ঘন্টা আগে।খুব টেনশন হত তাঁর।যদি ট্রেন ছেড়ে যায়? অনেক বুঝিয়ে ও পারা যেত না।আগে গিয়ে বসে থাকো।সে চেন্নাই যাও বা চাঁদিপুর।মায়ের শরীর তেমন ভাল না।তাই তাঁর কথাই ধার্য ।স্টেশনে এসে বসে থাকো।লোক দেখো।পত্রিকা পড়ো।সেইসব অনন্ত বসে থাকার দিন আর নেই।হারিয়ে গেছে মায়ের জন্য চিন্তা, তাকে নিয়ে ধরে ধরে ট্রেনে তোলা,কুলিকে হেঁকে বলা আস্তে চলো ভাই!মাজী ধীরে সে যায়েঙগে।হারিয়ে গেছে মনে করে সবার আগে ইনসুলিন আর ওষুধ গোছানোর তোড়জোর।শেষবার তিনি কলকাতা গেছিলেন হুইল চেয়ারে ।এবার স্টেশনে অমনি এক হুইল চেয়ার আরোহিণী কে দেখলাম।অমনি ঘাড় এলিয়ে বসে আছেন।পরনে ঢিলে পোষাক।রোগা শরীর।মনে হল এই তো আছেন!
মোটের ওপর দেখি হারিয়ে যাওয়ার খেলাটা অতি স্বাভাবিক ।তার জন্যে দুঃখ আসাও স্বাভাবিক ।কেন তাকে অকারণে সরিয়ে রাখার বৃথা চেষ্টা? সবটাই মনের মত হবে আর চিদানন্দ হয়ে চিরানন্দে থাকবো, এমন ভাবলেই যত গন্ডগোল ।থাক না চিনচিনে দুঃখের বর্ষণ ।হারিয়ে যাওয়া র কষ্ট না থাকলে ফিরে পাবার আনন্দ নেই।আর যেসব হারিয়ে যাওয়া ফেরে না,তাদের ধরে রাখতে নেই।তারা আলো হয়ে,বাতাস হয়ে, ধূলিকণা হয়ে আমাদের সঙ্গেই থাকে।শুধু খুঁজে নিতে জানতে হয়।
জীবনের দৌলতে জানতে পারছি মানুষ বড়ো অভিমানী হয়ে যাচ্ছে ।একা একা বোধ করছে আর কষ্ট পাচ্ছে ।বোধহয় কিছু হারিয়ে ফেলছে বলে ভয় পেয়ে ঠোঁট ফোলাচছে প্রতি নিয়ত ।কত ছোট ছোট ছেলেমেয়ে দুঃখ পেয়ে পোষ্ট দিচ্ছে হারানো বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে।আহা।তারা হোয়াট স আপ খুলে দেখেন হারানো বন্ধু কিছু লিখলো কিনা।না পেয়ে মন ভারী করে ফেবু তে বিরহের বা বিদ্বেষের রাগী পোষ্ট জারি করেন।সে সব জ্বালাময় লিখন স্রোতের মত ফেবুতে ভাসে।কেউ মনে রাখে না।হারিয়ে যাবার খেলা না বুঝতে পারলে জীবনে বিস্তর দুঃখু ।
এই তো যেমন পুরনো আজন্ম চেনা পাড়াতে ঢুকতে গিয়ে চমকে গেলাম।গড়িয়াহাটের বাম হাতি গলিতে পাও চেন চীনে রেঁসতরা কে বাঁয়ে রেখে সোজা তাকালে দেখতাম একটা মস্ত লম্বা বাড়ি।সাদা।তার দুদিক থেকে উঠে গেছে লম্বা ক্রিপার।ওপরে গিয়ে চূড়া বেঁধেছে।ও বাড়ি দেখে ছোটবেলা তে জেঠুর বাড়ির রাস্তা চিনতাম ।তার ডাইনে গেলে আচার্য সুনীতি কুমারের বাড়ি সুধর্মা যা কিনা বেশ কয়েকটি বছর ধরে fab India হয়েছে।লম্বা অভিজাত চেহারার সাদা বাড়িটা যার জানলা দরজা খোলা দেখিনি কখোনো ইদানিং একটি take away food joint এর সাইন বোর্ড ঝুলিয়েছিল বটে।সেকি তার আভিজাত্য হারাচছিল না অর্থ কৌলীন্য? নিশ্চয়ই দরকার পড়েছে।তাই ভেঙে পড়েছে বাড়ি।কাটা পড়েছে নীচ থেকে উঠে যাওয়া দুধারে দুটি লতানো গাছ।হারিয়ে গেল আমার ছোটবেলার পথচেনার স্মারক গৃহটি। অবশ্য এখন পথচেনার জন্য আমার তাকে দরকার হত না।অভ্যস্ত চোখে তাকাতাম।সেই তাকানোর মধ্যে একটু মেদুরতা থাকতো।হারিয়ে গেল।আবার এই চেহারা চেনা হয়ে যাবে কিছুদিনে।কিন্তু পুরোনো বাড়িটি বুকের মধ্যে ডানা ঝাপটাবে চিরকাল।
দক্ষিণাপণে ঢুকে দেখি ওমা।উঠে গেছে একদম সামনে গানের আর ছায়াছবি র সিডির চেনা দোকানখানা।কত সিডি কিনেছি সেখান থেকে! ক্লান্ত শরীরে এসে গানের কাছে আশ্রয় খুঁজেছি।পাশ্চাত্য ধ্রুপদী বাজনার ভাল সংগ্রহ ছিল ওঁদের।হারিয়ে গেল।দেখলাম সেখানে বাচ্চা দের পোষাকের দোকান হয়েছে।ওই গানের স্টলের কর্মচারীরা গেলেন কোথা?যেন নতুন কাজকর্মে ভাল থাকেন।
এই হারানো আর খুঁজে পাওয়া র খেলা তে কত পুরোনো বন্ধু দের ফিরে পেলাম! কখনো ভাবিনি এদের আবার ফিরে পাবো!আর যা ফিরে পাওয়া যাবে না কোনমতে? স্টেশনে আমি এখন দেরী করে ঢুকি।ট্রেন ছাড়ার সামান্য আগে।বেশ কয়েকটি বছর আগে এক মা তাঁর মেয়েটিকে নিয়ে স্টেশনে আসতেন ট্রেন ছাড়ার অন্তত দু ঘন্টা আগে।খুব টেনশন হত তাঁর।যদি ট্রেন ছেড়ে যায়? অনেক বুঝিয়ে ও পারা যেত না।আগে গিয়ে বসে থাকো।সে চেন্নাই যাও বা চাঁদিপুর।মায়ের শরীর তেমন ভাল না।তাই তাঁর কথাই ধার্য ।স্টেশনে এসে বসে থাকো।লোক দেখো।পত্রিকা পড়ো।সেইসব অনন্ত বসে থাকার দিন আর নেই।হারিয়ে গেছে মায়ের জন্য চিন্তা, তাকে নিয়ে ধরে ধরে ট্রেনে তোলা,কুলিকে হেঁকে বলা আস্তে চলো ভাই!মাজী ধীরে সে যায়েঙগে।হারিয়ে গেছে মনে করে সবার আগে ইনসুলিন আর ওষুধ গোছানোর তোড়জোর।শেষবার তিনি কলকাতা গেছিলেন হুইল চেয়ারে ।এবার স্টেশনে অমনি এক হুইল চেয়ার আরোহিণী কে দেখলাম।অমনি ঘাড় এলিয়ে বসে আছেন।পরনে ঢিলে পোষাক।রোগা শরীর।মনে হল এই তো আছেন!
মোটের ওপর দেখি হারিয়ে যাওয়ার খেলাটা অতি স্বাভাবিক ।তার জন্যে দুঃখ আসাও স্বাভাবিক ।কেন তাকে অকারণে সরিয়ে রাখার বৃথা চেষ্টা? সবটাই মনের মত হবে আর চিদানন্দ হয়ে চিরানন্দে থাকবো, এমন ভাবলেই যত গন্ডগোল ।থাক না চিনচিনে দুঃখের বর্ষণ ।হারিয়ে যাওয়া র কষ্ট না থাকলে ফিরে পাবার আনন্দ নেই।আর যেসব হারিয়ে যাওয়া ফেরে না,তাদের ধরে রাখতে নেই।তারা আলো হয়ে,বাতাস হয়ে, ধূলিকণা হয়ে আমাদের সঙ্গেই থাকে।শুধু খুঁজে নিতে জানতে হয়।
হংসধবনি
হাঁসের ডাক কি ভালো? না।সব হাঁসের ডাক শ্রুতিমধুর তো নয় বটে।বনলক্ষীর চীনে হাঁস দের দেখলে তো রীতিমত ভয় করে।তারা লাল লাল চোখে কড়া করে তাকিয়ে বুঝিয়ে দেয়.... তফাত যাও ।হাঁস মাত্র মোটেই মিষ্টি নরমসরম হেলদুলুনি নয়।তারা রাগতে জানে।ঠোকরাতে জানে।চাই কি ভয় দেখাতেও জানে। হাঁস বললেই যে তারা অবন ঠাকুরের বই থেকে উঠে আসা শান্ত সুবচনী হাঁস হবে বা ভদ্র সভ্য খোঁড়া হাঁস হবে,মিষ্টি মিষ্টি ডাকাডাকি করবেএমন ভাবার কোনও দরকার নেই।চকা নিকোবর রাও রয়েছেন। সাতসকালে হাঁস নিয়ে পড়লাম কেন রে বাবা?আমি যেখানে থাকি তার ত্রিসীমানা য় তো হাঁস নেই!সে না থাকুক।হংসধবনি তো আছে। রাগ হংসধবনি ।তার সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ মেঘে ঢাকা তারা ছবিতে।মনোমুগ্ধ।ছবি দেখে আর এ।টি।কাননের গানে ভিজে একেবারে বিমোহিত ।সখী লাগি লগন।কেমন নেশা ধরে গেল।তখন সদ্য ফার্স্ট ইয়ার । হাঁসের ডাক হোক না কর্কশ ।হংসধবনি যেন জলভরা মেঘের মত অবনতনেত্র মাধুর্য ।সে এমন নেশা হল যে যেখানে পাই হংসধবনি খুঁজে বেড়াই।আহা।ভীমসেন যোশী,বা কিশোরী আমোনকর।আমির খান।তখন তো ইউ টিউব ছিল না।তাই আঁতিপাতি করে খুঁজি।আমি কোথায় পাবো তারে।এই তো রশিদ খান গেয়েছেন।হৃদয় উল্লসিত ।পরে কৌশিকী গাইলেন।এবং আরো অনেকে।
আজকে মেঘলা দিনে হংসধবনি আমাকে পেয়ে বসেছে।মাঝে মাঝেই পায়।বাড়িতে মিস্ত্রি রা কাজ করছেন।চলাফেরা সীমায়িত।জিনিস পত্র জায়গা বদল করেছেন।এরকম অদলবদল বাড়ির সব সদস্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে খাবি খাচ্ছেন ।প্রথম দিন আমিও কিছু ধন্দে পড়ি।পরের দিন থেকে একটা ছন্দ আনার চেষ্টা থাকে।রান্না ঘরের যাবতীয় এখন বসার ঘর,পড়ার ঘর,শোবার ঘরে ঠাঁই নিয়েছেন।তাদের একটু গুছিয়ে নিয়েছি যাতে হাত বাড়ালে সাঁড়াশি টা বা খুন্তি টা পাওয়া যায়।নইলে বড় ঝামেলা ।ছোট যখন ছিলাম বাড়ি রং করার সময় খুব মজা লাগত।খাটের ওপর টেবিল ।তার ওপর ফুলের টব।টেবিলের নিচে মোড়া।মাথার কাছে সার দেওয়া সুটকেস।তারওপর বই রেখে চলছে আমার পড়া।যেন একটা অন্য দুনিয়া ।খাট থেকে নামা বারন।কারণ হাতে পায়ে দরজার রং লেগেছে এরমধ্যেই।সে এক বিতিকিচছিরি অবস্থা ।তারপিন তেল দিয়ে ঘষে ঘষে রং তুলেএ মা খাটে উঠিয়ে দিয়েছেন ।মিস্ত্রি শিরীষ কাগজ দিয়ে দেওয়াল ঘষছে।বাবা গান চালিয়ে দিয়েছেন বেশ মৃদুস্বরে ।সব অগোছালো র মধ্যে সুর লাগছে।সাবান পাওয়া গেল না,বড়ির শিশি গেল কোথায়?বেলন চাকি খাটের নীচে রাখা হল।গেল কোথায়?ইসস।নীল ফুলদানী টা ভেঙ্গে গেল!!!জলের জাগটাই বা হাতের কাছে নেই কেন....এইসব হাজার তুচ্ছ বেরিয়ে সুর লাগছে।কখনো মারু বেহাগ।কখনো মালকোষ বা পূর্বী।এমন নয় যে ভীষণ বুঝে উল্টে দিচ্ছি।কিন্তু সুর জাল বুনছে চারদিকে ।সব বেনিয়ম কেমন মায়াবী আলোতে ভরে যাচছে।বেরিয়ে পড়ছে পুরোন বই।ছেঁড়া ছবি।পোস্ট কার্ড ।দিদুর চিঠি।ইতি আশীর্বাদিকা তোমার মা ... পোস্টকার্ড খুঁজে পেয়ে আনমনা হয়ে যাচ্ছে মা ...গান চলেছে সুরের পথ ধরে ...মোরি নইহার ছুট যায়ে।নতুন রঙের গন্ধে সুর মিশে যাচছে ।
এখন আমার পায়ের ওপর পা তুলে খাটে বসে থাকার দিন নেই।মিস্ত্রি কাজ করলে কান খাড়া করে থাকি কখন কি হুকুম হবে।তাঁরা খুব সদাশয় ।নিজেদের মত করে কাজ করেন।আমি শুধু সুরটুকু ধরে রাখার চেষ্টা করি।হংসধবনি আজ তাতে সঙ্গ দিয়েছেন।মেঘলা আকাশ দেখছি সেলফোনে।তাতে হংসপাখা।পাখা কি খসে পড়ল?এই যে খবরের কাগজ।
এত রক্তপাতের খবরে সুর তাল সবি কেটে যায়।সন্ত্রাস গিলে নিচ্ছে সব সুর।বিদেশ থেকে ছুটি কাটাতে আসা মেয়েটি হত হয়ে পড়ে থাকলেন।যেমন হত হলেন আরো অনেকে।রক্তাক্ত হচ্ছেন প্রতি দিন এত মানুষ ।কি ভয়ংকর!সন্ত্রাস আর নতুন খবর নয়!!!! নিরাপত্তাহীনতা কে সঙ্গী করে বেঁচে আছি, নরম হাঁসেরা, জীবনানন্দের হাঁসেরা তাদের সব সুর নিয়ে কোথায় লুকালো! এ বুঝি সেই ঘন নিকষ মেঘ যার তল নেই।ঝরে যাওয়া নেই।আছে শুধু আগ্রাসন! বাঁশি হারিয়ে যাচ্ছে ।আমি কোন সুরে খুঁজি তোমারে? ????
হাঁসের ডাক কি ভালো? না।সব হাঁসের ডাক শ্রুতিমধুর তো নয় বটে।বনলক্ষীর চীনে হাঁস দের দেখলে তো রীতিমত ভয় করে।তারা লাল লাল চোখে কড়া করে তাকিয়ে বুঝিয়ে দেয়.... তফাত যাও ।হাঁস মাত্র মোটেই মিষ্টি নরমসরম হেলদুলুনি নয়।তারা রাগতে জানে।ঠোকরাতে জানে।চাই কি ভয় দেখাতেও জানে। হাঁস বললেই যে তারা অবন ঠাকুরের বই থেকে উঠে আসা শান্ত সুবচনী হাঁস হবে বা ভদ্র সভ্য খোঁড়া হাঁস হবে,মিষ্টি মিষ্টি ডাকাডাকি করবেএমন ভাবার কোনও দরকার নেই।চকা নিকোবর রাও রয়েছেন। সাতসকালে হাঁস নিয়ে পড়লাম কেন রে বাবা?আমি যেখানে থাকি তার ত্রিসীমানা য় তো হাঁস নেই!সে না থাকুক।হংসধবনি তো আছে। রাগ হংসধবনি ।তার সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ মেঘে ঢাকা তারা ছবিতে।মনোমুগ্ধ।ছবি দেখে আর এ।টি।কাননের গানে ভিজে একেবারে বিমোহিত ।সখী লাগি লগন।কেমন নেশা ধরে গেল।তখন সদ্য ফার্স্ট ইয়ার । হাঁসের ডাক হোক না কর্কশ ।হংসধবনি যেন জলভরা মেঘের মত অবনতনেত্র মাধুর্য ।সে এমন নেশা হল যে যেখানে পাই হংসধবনি খুঁজে বেড়াই।আহা।ভীমসেন যোশী,বা কিশোরী আমোনকর।আমির খান।তখন তো ইউ টিউব ছিল না।তাই আঁতিপাতি করে খুঁজি।আমি কোথায় পাবো তারে।এই তো রশিদ খান গেয়েছেন।হৃদয় উল্লসিত ।পরে কৌশিকী গাইলেন।এবং আরো অনেকে।
আজকে মেঘলা দিনে হংসধবনি আমাকে পেয়ে বসেছে।মাঝে মাঝেই পায়।বাড়িতে মিস্ত্রি রা কাজ করছেন।চলাফেরা সীমায়িত।জিনিস পত্র জায়গা বদল করেছেন।এরকম অদলবদল বাড়ির সব সদস্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে খাবি খাচ্ছেন ।প্রথম দিন আমিও কিছু ধন্দে পড়ি।পরের দিন থেকে একটা ছন্দ আনার চেষ্টা থাকে।রান্না ঘরের যাবতীয় এখন বসার ঘর,পড়ার ঘর,শোবার ঘরে ঠাঁই নিয়েছেন।তাদের একটু গুছিয়ে নিয়েছি যাতে হাত বাড়ালে সাঁড়াশি টা বা খুন্তি টা পাওয়া যায়।নইলে বড় ঝামেলা ।ছোট যখন ছিলাম বাড়ি রং করার সময় খুব মজা লাগত।খাটের ওপর টেবিল ।তার ওপর ফুলের টব।টেবিলের নিচে মোড়া।মাথার কাছে সার দেওয়া সুটকেস।তারওপর বই রেখে চলছে আমার পড়া।যেন একটা অন্য দুনিয়া ।খাট থেকে নামা বারন।কারণ হাতে পায়ে দরজার রং লেগেছে এরমধ্যেই।সে এক বিতিকিচছিরি অবস্থা ।তারপিন তেল দিয়ে ঘষে ঘষে রং তুলেএ মা খাটে উঠিয়ে দিয়েছেন ।মিস্ত্রি শিরীষ কাগজ দিয়ে দেওয়াল ঘষছে।বাবা গান চালিয়ে দিয়েছেন বেশ মৃদুস্বরে ।সব অগোছালো র মধ্যে সুর লাগছে।সাবান পাওয়া গেল না,বড়ির শিশি গেল কোথায়?বেলন চাকি খাটের নীচে রাখা হল।গেল কোথায়?ইসস।নীল ফুলদানী টা ভেঙ্গে গেল!!!জলের জাগটাই বা হাতের কাছে নেই কেন....এইসব হাজার তুচ্ছ বেরিয়ে সুর লাগছে।কখনো মারু বেহাগ।কখনো মালকোষ বা পূর্বী।এমন নয় যে ভীষণ বুঝে উল্টে দিচ্ছি।কিন্তু সুর জাল বুনছে চারদিকে ।সব বেনিয়ম কেমন মায়াবী আলোতে ভরে যাচছে।বেরিয়ে পড়ছে পুরোন বই।ছেঁড়া ছবি।পোস্ট কার্ড ।দিদুর চিঠি।ইতি আশীর্বাদিকা তোমার মা ... পোস্টকার্ড খুঁজে পেয়ে আনমনা হয়ে যাচ্ছে মা ...গান চলেছে সুরের পথ ধরে ...মোরি নইহার ছুট যায়ে।নতুন রঙের গন্ধে সুর মিশে যাচছে ।
এখন আমার পায়ের ওপর পা তুলে খাটে বসে থাকার দিন নেই।মিস্ত্রি কাজ করলে কান খাড়া করে থাকি কখন কি হুকুম হবে।তাঁরা খুব সদাশয় ।নিজেদের মত করে কাজ করেন।আমি শুধু সুরটুকু ধরে রাখার চেষ্টা করি।হংসধবনি আজ তাতে সঙ্গ দিয়েছেন।মেঘলা আকাশ দেখছি সেলফোনে।তাতে হংসপাখা।পাখা কি খসে পড়ল?এই যে খবরের কাগজ।
এত রক্তপাতের খবরে সুর তাল সবি কেটে যায়।সন্ত্রাস গিলে নিচ্ছে সব সুর।বিদেশ থেকে ছুটি কাটাতে আসা মেয়েটি হত হয়ে পড়ে থাকলেন।যেমন হত হলেন আরো অনেকে।রক্তাক্ত হচ্ছেন প্রতি দিন এত মানুষ ।কি ভয়ংকর!সন্ত্রাস আর নতুন খবর নয়!!!! নিরাপত্তাহীনতা কে সঙ্গী করে বেঁচে আছি, নরম হাঁসেরা, জীবনানন্দের হাঁসেরা তাদের সব সুর নিয়ে কোথায় লুকালো! এ বুঝি সেই ঘন নিকষ মেঘ যার তল নেই।ঝরে যাওয়া নেই।আছে শুধু আগ্রাসন! বাঁশি হারিয়ে যাচ্ছে ।আমি কোন সুরে খুঁজি তোমারে? ????
Subscribe to:
Comments (Atom)

