হস্টেল৫......মেয়েরা এবং তিনি।।
একদিকে একটা চারতলা ইমারত,মাঝখানে ছোট্ট চাতাল, তার ওপাশে নতুন বাড়ি।ছোট একফালি বাগানও আছে। আর সারা জায়গাটাই মেয়েদের দখলে,রান্নাবান্নার দাদারা ছাড়া।দোতলা,তিনতলা ইত্যাদিতে সিনিয়ার মেয়েদের জায়গা,ফার্স্টিয়ারের জন্যে একতলা।এতগুলো মেয়ে একসঙ্গে থাকলে কতকিছু হতে পারে! এমনকি হস্টেলে জায়গা কম পড়লে পাশের গেস্টহাউস দখল করার মত বীরাঙ্গনারাও ছিল। তাদের দৌলতে অতিথি-আবাসে গিয়ে দেখি ।।ওরে বাবা,এ তো স্বপ্ন...মখমলী বিছানা,তেমনি পর্দা,ঢাঊশ নরম সোফা,মনোহর বাথরুম...।সেখানে আড্ডা মারাটাও বেশ স্বপ্ন স্বপ্ন।।কারণ সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয় নি,মাস কয়েক বাদেই নতুন বাড়ি বানিয়ে বীরাঙ্গনাদের স্থানচ্যুত করা হয়েছিল।।কিন্তু গেস্ট-হাউসে একটা ভারী ভালো বয়েল্ড স্যালাড পাওয়া যেত...।আলু,বিণস,গাজর,মটরশুঁটি,বীট,সেদ্ধ,কিছু চিকেন সেদ্ধ...গোল-মরিচ ছড়ানো।যেদিন আমাদের একটু স্বাস্থ্যকর খানার ঝোঁক হত...বা অসময়ে খিদে পেত।।এই খাদ্যটি খুব কাজে দিত।
যা বলছিলাম...।।এই এত্ত মেয়ে...কেউ লম্বাচুল,কেউ বয়েজকাট ,কেউ শান্ত,কেউ দুর্দান্ত,কেউ চরম লাজুক কেউ চরম ফাজিল।।কেউ ভোর পাঁচটা তো কেউ সকাল নটা...। কেউ নরম তো কেঊ গরম...রুমা যা কেনে সব ডজন হারে...।গরিয়াহাট থেকে একডজন রুমাল,একডজন নাইটি,একডজন কলা,একডজন ক্লিপ, এক ডজন সাবান...।উর্মিলা জামাকাপড় কাচে না...ঘেমো জামার ওপর পার্ফ্যুম স্প্রে করে দুমদাম বেরিয়ে যায়,গন্ধে তিষ্ঠোতে পারি না। সে আরেক কাহিনী।শর্মি খুব পড়ুয়া,সকালে উঠে আগে স্টেটসম্যানের এডিটোরিয়াল পড়ে...উর্মিলার তখন মাঝরাত।।রত্না খেলা পাগল...। রীতা এয়ার-ফোর্স নিয়ে অবসেসড।কুমকুমদি মাথার দুপাশে ক্লিপ দিয়ে বেগুনী হাউসকোট পরে বনলতা সেনের মত চোখ তুলে তাকায় ...রুপাদি ভীষণ ভালো দিদি... স্বাগতা জামশেদপুরে প্রেমিক কে ছেড়ে এসে মনখারাপ।।সুমিতা অতি শান্ত,জয়শ্রী ছটফটে...সোমা রাত জাগে,অত্রি ভোরে হাঁটতে যায়...।এত রাশি রাশি অমিলের মধ্যে এক টা হাইয়েস্ট কমন ফ্যাক্টর ছিল...।তাঁর ব্যাপারে সমস্ত হস্টেল-বাসিণী এক হয়ে যেত।।তাঁর সুখে সবাই আনন্দিত,দুঃখে দুঃখিত,...।তাঁর সাফল্যে সবাই উচ্ছসিত।।তাঁর পরাজয়ে সবাই ম্লান... তাঁকে দেখলে সবাই মুগ্ধ, দুই বিল্ডিং মিলিয়ে এমন কেউ নেই যে তাঁর খবর রাখে না...তিনি শ্রীল শ্রীযুক্ত বাবু .........।।খেয়াল করলে দেখেছি এই ভদ্রলোকের একটা জাদুকরী প্রভাব কাজ করতো হস্টেলে ,যেমন আরো পাঁচজায়গাতে করে আর কি। এটা টের পাওয়া যেত চিত্রহার দেখার সময় বা রবিবারের হিন্দি ছবির প্রদর্শণীর তুমুল আনন্দকালে কারন তখনো চ্যানেলের বারোয়ারীক্ষেত্র খুলে যায় নি। বুধবার আটটায় যদি একবার ও তাঁর লম্বাপানা মুখ টিভিতে আসত...আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।টিনের সারি সারি চেয়ার টিভি-রুমে। বুধবার আটটায় তিল ধারনের জায়গা নেই...শাড়ি,হাউস-কোট,চুড়িদার,সালোয়ার,স্কার্ট।।জিন্স,হাতে বই,
মুখে ক্রীম,সবাই হাজির। চিত্রহার শুরু
বিজ্ঞাপন..উফফফফ,আবার!অসহ্য!!
শশি কাপুর-জিণৎ আমণ ,সত্যম শিবম সুন্দরম।।চলো দেখে নিচ্ছি
মিঠুন চক্রবর্তি এলেন ডিস্কো ডান্সার হয়ে...এ মাগো!ছি!!!
শ্মমীকাপুর-শর্মিলা...।আবার বেবুন টা এসেছে!!
শেষের দিকের রাজেশ খান্না এলেন।কাকু বাড়ি যাও’!!
হঠাত অপার নৈঃশব্দ...
সম্মিলিত আওয়াজ......।উউউউউউউউউউউউউ
তিনি এসেছেন...দেখেন নি,তাও জয় করেছেন...
ইয়েসসসস। তিনি জয়,তিনিই বিজয়।।তিনি বাবু অমিতাভ বচ্চন।তাঁর নামে সব অমিল ,শক হুণ,পাঠান,মোগল এসে টিভি রুমে মিলে গেছে...কি কপাল ভদ্রলোকের!!!যখন পেটে চোট পেয়েছেন তখন কেউ কেউ পূজোও দিয়েছিল,উপোষ করেছিল কি না জানিনা। তবে ইন্টেগ্রেটিং ফ্যাক্ট্রর হিসেবে হস্টেলে তিনি অব্যর্থ!!!যখন বিস্তর আজে বাজে ছবি করছেন,চেহারা অস্তমিত ,তখন মনে মনে বলছি।। ‘দাড়ি রাখুন স্যর,দাড়িটা রাখুন,ছক পালটে যাবে’। কালে কালে তাই ই হল তো!!এখনো কেমন দাপিয়ে ব্যাটিং করছেন!
কিন্তু চিত্রহার বা অই জাতীয় কিছু আর দেখি না। বাড়ির এল ইডি তে হস্টেলের উউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউ টা শুনতে পাইনা যে!
একদিকে একটা চারতলা ইমারত,মাঝখানে ছোট্ট চাতাল, তার ওপাশে নতুন বাড়ি।ছোট একফালি বাগানও আছে। আর সারা জায়গাটাই মেয়েদের দখলে,রান্নাবান্নার দাদারা ছাড়া।দোতলা,তিনতলা ইত্যাদিতে সিনিয়ার মেয়েদের জায়গা,ফার্স্টিয়ারের জন্যে একতলা।এতগুলো মেয়ে একসঙ্গে থাকলে কতকিছু হতে পারে! এমনকি হস্টেলে জায়গা কম পড়লে পাশের গেস্টহাউস দখল করার মত বীরাঙ্গনারাও ছিল। তাদের দৌলতে অতিথি-আবাসে গিয়ে দেখি ।।ওরে বাবা,এ তো স্বপ্ন...মখমলী বিছানা,তেমনি পর্দা,ঢাঊশ নরম সোফা,মনোহর বাথরুম...।সেখানে আড্ডা মারাটাও বেশ স্বপ্ন স্বপ্ন।।কারণ সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয় নি,মাস কয়েক বাদেই নতুন বাড়ি বানিয়ে বীরাঙ্গনাদের স্থানচ্যুত করা হয়েছিল।।কিন্তু গেস্ট-হাউসে একটা ভারী ভালো বয়েল্ড স্যালাড পাওয়া যেত...।আলু,বিণস,গাজর,মটরশুঁটি,বীট,সেদ্ধ,কিছু চিকেন সেদ্ধ...গোল-মরিচ ছড়ানো।যেদিন আমাদের একটু স্বাস্থ্যকর খানার ঝোঁক হত...বা অসময়ে খিদে পেত।।এই খাদ্যটি খুব কাজে দিত।
যা বলছিলাম...।।এই এত্ত মেয়ে...কেউ লম্বাচুল,কেউ বয়েজকাট ,কেউ শান্ত,কেউ দুর্দান্ত,কেউ চরম লাজুক কেউ চরম ফাজিল।।কেউ ভোর পাঁচটা তো কেউ সকাল নটা...। কেউ নরম তো কেঊ গরম...রুমা যা কেনে সব ডজন হারে...।গরিয়াহাট থেকে একডজন রুমাল,একডজন নাইটি,একডজন কলা,একডজন ক্লিপ, এক ডজন সাবান...।উর্মিলা জামাকাপড় কাচে না...ঘেমো জামার ওপর পার্ফ্যুম স্প্রে করে দুমদাম বেরিয়ে যায়,গন্ধে তিষ্ঠোতে পারি না। সে আরেক কাহিনী।শর্মি খুব পড়ুয়া,সকালে উঠে আগে স্টেটসম্যানের এডিটোরিয়াল পড়ে...উর্মিলার তখন মাঝরাত।।রত্না খেলা পাগল...। রীতা এয়ার-ফোর্স নিয়ে অবসেসড।কুমকুমদি মাথার দুপাশে ক্লিপ দিয়ে বেগুনী হাউসকোট পরে বনলতা সেনের মত চোখ তুলে তাকায় ...রুপাদি ভীষণ ভালো দিদি... স্বাগতা জামশেদপুরে প্রেমিক কে ছেড়ে এসে মনখারাপ।।সুমিতা অতি শান্ত,জয়শ্রী ছটফটে...সোমা রাত জাগে,অত্রি ভোরে হাঁটতে যায়...।এত রাশি রাশি অমিলের মধ্যে এক টা হাইয়েস্ট কমন ফ্যাক্টর ছিল...।তাঁর ব্যাপারে সমস্ত হস্টেল-বাসিণী এক হয়ে যেত।।তাঁর সুখে সবাই আনন্দিত,দুঃখে দুঃখিত,...।তাঁর সাফল্যে সবাই উচ্ছসিত।।তাঁর পরাজয়ে সবাই ম্লান... তাঁকে দেখলে সবাই মুগ্ধ, দুই বিল্ডিং মিলিয়ে এমন কেউ নেই যে তাঁর খবর রাখে না...তিনি শ্রীল শ্রীযুক্ত বাবু .........।।খেয়াল করলে দেখেছি এই ভদ্রলোকের একটা জাদুকরী প্রভাব কাজ করতো হস্টেলে ,যেমন আরো পাঁচজায়গাতে করে আর কি। এটা টের পাওয়া যেত চিত্রহার দেখার সময় বা রবিবারের হিন্দি ছবির প্রদর্শণীর তুমুল আনন্দকালে কারন তখনো চ্যানেলের বারোয়ারীক্ষেত্র খুলে যায় নি। বুধবার আটটায় যদি একবার ও তাঁর লম্বাপানা মুখ টিভিতে আসত...আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।টিনের সারি সারি চেয়ার টিভি-রুমে। বুধবার আটটায় তিল ধারনের জায়গা নেই...শাড়ি,হাউস-কোট,চুড়িদার,সালোয়ার,স্কার্ট।।জিন্স,হাতে বই,
মুখে ক্রীম,সবাই হাজির। চিত্রহার শুরু
বিজ্ঞাপন..উফফফফ,আবার!অসহ্য!!
শশি কাপুর-জিণৎ আমণ ,সত্যম শিবম সুন্দরম।।চলো দেখে নিচ্ছি
মিঠুন চক্রবর্তি এলেন ডিস্কো ডান্সার হয়ে...এ মাগো!ছি!!!
শ্মমীকাপুর-শর্মিলা...।আবার বেবুন টা এসেছে!!
শেষের দিকের রাজেশ খান্না এলেন।কাকু বাড়ি যাও’!!
হঠাত অপার নৈঃশব্দ...
সম্মিলিত আওয়াজ......।উউউউউউউউউউউউউ
তিনি এসেছেন...দেখেন নি,তাও জয় করেছেন...
ইয়েসসসস। তিনি জয়,তিনিই বিজয়।।তিনি বাবু অমিতাভ বচ্চন।তাঁর নামে সব অমিল ,শক হুণ,পাঠান,মোগল এসে টিভি রুমে মিলে গেছে...কি কপাল ভদ্রলোকের!!!যখন পেটে চোট পেয়েছেন তখন কেউ কেউ পূজোও দিয়েছিল,উপোষ করেছিল কি না জানিনা। তবে ইন্টেগ্রেটিং ফ্যাক্ট্রর হিসেবে হস্টেলে তিনি অব্যর্থ!!!যখন বিস্তর আজে বাজে ছবি করছেন,চেহারা অস্তমিত ,তখন মনে মনে বলছি।। ‘দাড়ি রাখুন স্যর,দাড়িটা রাখুন,ছক পালটে যাবে’। কালে কালে তাই ই হল তো!!এখনো কেমন দাপিয়ে ব্যাটিং করছেন!
কিন্তু চিত্রহার বা অই জাতীয় কিছু আর দেখি না। বাড়ির এল ইডি তে হস্টেলের উউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউ টা শুনতে পাইনা যে!

No comments:
Post a Comment