হস্টেলদিন আর ম্যাগির মায়া
দিন কয়েকের ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হতে হতে ভাবছিলাম একটু বৃষ্টি পেলে কেমন আহ্লাদে গলে জল হয়ে যাই আমরা। মন ভালো হয়।শরীর ঝরঝরে লাগে,বেশ নতুন নতুন গপ্পো তৈরি হয়...গুনগুন করে গান... কিন্তু তেমন করে বৃষ্টিতে ভেজা হয় না আর। ক্লাস থেকে হস্টেলে ফিরতে যেমন চুপড়ি হয়ে ভিজে আসতাম...,। ক্যাম্পাসের মধ্যেই তো হস্টেল...কি হবে ছাতা নিয়ে! তাই বৃষ্টিতে অপলক ভেজা... দীঘির পাশের রাস্তা,যেটাকে আমরা বলতাম সিলসিলার রাস্তা...তেমনি দুধারে লম্বা গাছেদের সারি।।ভিজে রাস্তা।।যেন এই মাত্র মেঘমন্দ্রিত কণ্ঠে কেউ গেয়ে উঠবেন।।নীলা আসমান খো গয়া!! তিন চারজন বই খাতার ব্যাগ পিঠে বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়াচ্ছে।।।।ঘরে ফিরে বাথরুমে হাপুসহুপুস স্নান।।হিটারে জল ফুটছে...গরম গরম কফি তৈরি হবে...আর চটজলদি ম্যাগি!সোমা জল বসালে।অনুরাধা কফি ঘুঁটছে।।রিতা টম্যাটো পেঁয়াজ কুটছে ম্যাগিতে এক্সট্রা আনন্দ আনার জন্য।রত্নামালার জন্য নিরিমিষ ম্যাগি।।এরকম কত বর্ষা বিধৌত বিকেল দিয়ে একেকটা জমকালো কাঁথা কাজের শাড়ির মত নিখাঁদ বন্ধুত্বর বুনোট । আহা,সেই হস্টেল যেমন দলবেঁধে কজনে মিলে ম্যাগিরন্ধন শিখিয়েছিল,তেমনি শিখিয়েছিল দ্বীপ থেকে দ্বীপান্তরে যেতে। সারাটা দিন তাদের এক সঙ্গে ...হস্টেল-তরুণীরা দলবেঁধে গান গায়,পড়তে বসে।।ছবি।।ফোটোগ্রাফি ক্লাব।।কনভোকেশনে।। ছবি তোলার পালা আসে যায়...। রবীন্দ্রজয়ন্তীতে মেনু হয় পোলাও –মাংস, হস্টেল জীবন না থাকলে এমন চিকেনময় রবিজন্মোৎসব হত কি? না না, বেলের পানা,ঠান্ডা মিষ্টি।।তালশাঁষের শিষ্ট আপ্যায়ণ হস্টেলের দুরন্ত তরুণিদের জন্য না।তোর-আমার জন্মদিনে মাংস-পোলাও।। রবি ঠাকুরের জন্মদিনে নয় কেন? তিনি তো আমাদেরি লোক!
তা বলে কি একলা চলা নেই? রত্নার সেমেস্টার হয়ে গেছে,বৃষ্টি মাথায় করে সে চলে গেল দুর্গাপুরে তার বাড়ি।।রিতা চললো দিল্লি তার বাবা-মায়ের কাছে। তৃতীয় জনের সেমেস্টার নেই।বছর শেষে পরীক্ষা।।সে করে কি? দিনের শেষে ফাঁকা ঘর যেন হাঁ করে গিলতে আসে! পাশের বিছানা দুটো খালি,গতরাত্তিরেও তিন বন্ধুতে কত জমজমাট আড্ডা।।রত্নার নিরিমিষ ম্যাগিতে পেঁয়াজ পড়ে গেছে বলে চেঁচামেচি।।রাত দুটো পর্যন্ত গভীর আড্ডা।।নিরবিচ্ছিন্ন...আজ কোথায় তারা? ফাঁকা দেয়ালে তাদের জামা কাপড় শুকুচ্ছে।।টেবিল শূন্য।। মনখারাপ করে পড়ে আছে বাটার স্যান্ডাল।। হাঊস কোট ঝুলছে ,হাওয়ায় দুলছে তিনবন্ধুর একটি ক্যালেন্ডার! মনে পড়ছে মায়ের কথা।। বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছে! গুটি গুটি পায়ে পাশের ঘরে যাই।। সুমিতা জেগে।মৈত্রেয়ীও।পাঞ্চালী বাড়ি গেছে। একটা বিছানা ফাঁকা এঘরে। গপ্পো শুরু হলে মনখারাপের তিস্তার স্রোত ব্যাহত হয়...। সেখানেই ঘুমে চোখ বুঁজে আসে। পরের দিন ও তাই।তার পরের দিন ও ঘরে যাবার আগে বই বগলে স্বাগতা চলে আসে ...তোর ঘরে দুটো বেড ফাঁকা রে? আমি শোবো? আমার রুম মেট গুলো বাড়ি গেছে! ফার্স্টইয়ারের এই পার্মুটেশন –কম্বিনেশন চলতেই থাকে...। রত্না-রিতা-অনুরাধা বা সোমা-অনুরাধা-স্বাগতা বা উর্মি-অনুরাধা...।গ্রীষ্ম-বর্ষা পার হয়ে যায়।।আমরা বড় হই।।তখন আর সেমেস্টার শেষে ফাঁকা ঘরে একা ঘুমাতে মনখারাপ করে না।।আড্ডা হয় না,পড়া হয় । বন্ধু কাল সকালেই আসবে। তার জন্য ম্যাগি এনে রাখি ঘরে। বন্ধুবিচ্ছেদে আর কাতর না কেউ।। বড় হবার পাঠ দিয়েছে হস্টেলের একলা থাকার দিন রাত।।বৃষ্টির অঝোর ধারা ঝরেছে সারা সন্ধ্যে ,একা একা ম্যাগি করে খেতে গলার কাছে ব্যথা করার কৈশোর ,বাড়ির জন্য হঠাৎ মন মুচড়ে ওঠা গোধুলিবেলা হারিয়ে গেছে সপ্রতিভ হয়ে ওঠার অদম্য বাসনায়... সেই বন্ধুদের অনেকের সঙ্গে যোগ আছে।। অনেকে হারিয়ে গেছে জুঁইফুলের গন্ধের মতো। ম্যাগি ও হারিয়ে গেল।
দিন কয়েকের ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হতে হতে ভাবছিলাম একটু বৃষ্টি পেলে কেমন আহ্লাদে গলে জল হয়ে যাই আমরা। মন ভালো হয়।শরীর ঝরঝরে লাগে,বেশ নতুন নতুন গপ্পো তৈরি হয়...গুনগুন করে গান... কিন্তু তেমন করে বৃষ্টিতে ভেজা হয় না আর। ক্লাস থেকে হস্টেলে ফিরতে যেমন চুপড়ি হয়ে ভিজে আসতাম...,। ক্যাম্পাসের মধ্যেই তো হস্টেল...কি হবে ছাতা নিয়ে! তাই বৃষ্টিতে অপলক ভেজা... দীঘির পাশের রাস্তা,যেটাকে আমরা বলতাম সিলসিলার রাস্তা...তেমনি দুধারে লম্বা গাছেদের সারি।।ভিজে রাস্তা।।যেন এই মাত্র মেঘমন্দ্রিত কণ্ঠে কেউ গেয়ে উঠবেন।।নীলা আসমান খো গয়া!! তিন চারজন বই খাতার ব্যাগ পিঠে বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়াচ্ছে।।।।ঘরে ফিরে বাথরুমে হাপুসহুপুস স্নান।।হিটারে জল ফুটছে...গরম গরম কফি তৈরি হবে...আর চটজলদি ম্যাগি!সোমা জল বসালে।অনুরাধা কফি ঘুঁটছে।।রিতা টম্যাটো পেঁয়াজ কুটছে ম্যাগিতে এক্সট্রা আনন্দ আনার জন্য।রত্নামালার জন্য নিরিমিষ ম্যাগি।।এরকম কত বর্ষা বিধৌত বিকেল দিয়ে একেকটা জমকালো কাঁথা কাজের শাড়ির মত নিখাঁদ বন্ধুত্বর বুনোট । আহা,সেই হস্টেল যেমন দলবেঁধে কজনে মিলে ম্যাগিরন্ধন শিখিয়েছিল,তেমনি শিখিয়েছিল দ্বীপ থেকে দ্বীপান্তরে যেতে। সারাটা দিন তাদের এক সঙ্গে ...হস্টেল-তরুণীরা দলবেঁধে গান গায়,পড়তে বসে।।ছবি।।ফোটোগ্রাফি ক্লাব।।কনভোকেশনে।। ছবি তোলার পালা আসে যায়...। রবীন্দ্রজয়ন্তীতে মেনু হয় পোলাও –মাংস, হস্টেল জীবন না থাকলে এমন চিকেনময় রবিজন্মোৎসব হত কি? না না, বেলের পানা,ঠান্ডা মিষ্টি।।তালশাঁষের শিষ্ট আপ্যায়ণ হস্টেলের দুরন্ত তরুণিদের জন্য না।তোর-আমার জন্মদিনে মাংস-পোলাও।। রবি ঠাকুরের জন্মদিনে নয় কেন? তিনি তো আমাদেরি লোক!
তা বলে কি একলা চলা নেই? রত্নার সেমেস্টার হয়ে গেছে,বৃষ্টি মাথায় করে সে চলে গেল দুর্গাপুরে তার বাড়ি।।রিতা চললো দিল্লি তার বাবা-মায়ের কাছে। তৃতীয় জনের সেমেস্টার নেই।বছর শেষে পরীক্ষা।।সে করে কি? দিনের শেষে ফাঁকা ঘর যেন হাঁ করে গিলতে আসে! পাশের বিছানা দুটো খালি,গতরাত্তিরেও তিন বন্ধুতে কত জমজমাট আড্ডা।।রত্নার নিরিমিষ ম্যাগিতে পেঁয়াজ পড়ে গেছে বলে চেঁচামেচি।।রাত দুটো পর্যন্ত গভীর আড্ডা।।নিরবিচ্ছিন্ন...আজ কোথায় তারা? ফাঁকা দেয়ালে তাদের জামা কাপড় শুকুচ্ছে।।টেবিল শূন্য।। মনখারাপ করে পড়ে আছে বাটার স্যান্ডাল।। হাঊস কোট ঝুলছে ,হাওয়ায় দুলছে তিনবন্ধুর একটি ক্যালেন্ডার! মনে পড়ছে মায়ের কথা।। বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছে! গুটি গুটি পায়ে পাশের ঘরে যাই।। সুমিতা জেগে।মৈত্রেয়ীও।পাঞ্চালী বাড়ি গেছে। একটা বিছানা ফাঁকা এঘরে। গপ্পো শুরু হলে মনখারাপের তিস্তার স্রোত ব্যাহত হয়...। সেখানেই ঘুমে চোখ বুঁজে আসে। পরের দিন ও তাই।তার পরের দিন ও ঘরে যাবার আগে বই বগলে স্বাগতা চলে আসে ...তোর ঘরে দুটো বেড ফাঁকা রে? আমি শোবো? আমার রুম মেট গুলো বাড়ি গেছে! ফার্স্টইয়ারের এই পার্মুটেশন –কম্বিনেশন চলতেই থাকে...। রত্না-রিতা-অনুরাধা বা সোমা-অনুরাধা-স্বাগতা বা উর্মি-অনুরাধা...।গ্রীষ্ম-বর্ষা পার হয়ে যায়।।আমরা বড় হই।।তখন আর সেমেস্টার শেষে ফাঁকা ঘরে একা ঘুমাতে মনখারাপ করে না।।আড্ডা হয় না,পড়া হয় । বন্ধু কাল সকালেই আসবে। তার জন্য ম্যাগি এনে রাখি ঘরে। বন্ধুবিচ্ছেদে আর কাতর না কেউ।। বড় হবার পাঠ দিয়েছে হস্টেলের একলা থাকার দিন রাত।।বৃষ্টির অঝোর ধারা ঝরেছে সারা সন্ধ্যে ,একা একা ম্যাগি করে খেতে গলার কাছে ব্যথা করার কৈশোর ,বাড়ির জন্য হঠাৎ মন মুচড়ে ওঠা গোধুলিবেলা হারিয়ে গেছে সপ্রতিভ হয়ে ওঠার অদম্য বাসনায়... সেই বন্ধুদের অনেকের সঙ্গে যোগ আছে।। অনেকে হারিয়ে গেছে জুঁইফুলের গন্ধের মতো। ম্যাগি ও হারিয়ে গেল।

No comments:
Post a Comment