আবার আজকে ও?
গতকাল বলছিলাম রাত্রির নিভৃতির কথা।কিছু কথা বাকি ছিল ....তাই তাদের ভাগ করে নেওয়া বন্ধুদের সঙ্গে ।
রাত যদি মানুষ হত, তবে তার নাম দিতাম আঁধারময়ী ।খুব ছোট্ট বেলা থেকে তার সঙ্গে আমার আদান প্রদান ।বাবা ফিরতেন অনেক দেরী তে।যতক্ষণ বাবা না আসতেন , পড়াশোনা, গানের পাট সেরে একটা ছোট্ট মেয়ে কোলাপসেবল গেট ধরে দাঁড়িয়ে থাকত।সেটা আমাদের বালিগঞ্জের বাড়ি।তখন কিন্তু সে রাত কে ভয় পেত।যদি বাবা হারিয়ে যায়!যেই বাবা দোড়গোড়ায়,ওমনি সব ভয় হাওয়া! তারপরও তাদের শুতে অনেক রাত হত।খাওয়ার পর বাবা তুলি হাতে ইজেলের সামনে।মেয়ে টা দেখতে পেতো একটু দূরে হাতে টানা রিকশা চালকরা জড়ো হয়েছে ।কোমরে বাঁধা পোটলা থেকে ছাতু বেরোচ্ছে ।বেরোচ্ছে লঙ্কা ।ছেদিলালের দোকান থেকে কেউ নিয়ে গেল একটি পলা সর্ষের তেল।ছাতু মাখা হত জম্পেশ করে।মেয়েটা ঘাড় উঁচু করে সেই খাবারের গন্ধ নিতে চাইত।পেতো না।তারপর শুরু হত দেহাতী গানা।রাত গভীর হতে তারা গামছা বিছিয়ে রিকশার নীচেই ঘুমিয়ে যেত! তখন আর রাত্রি বেলাটা ভয়ের কিছু নয়!রাস্তার ওপর কয়েকজন মানুষ কি নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে! গেটের এপাশ থেকে মেয়েটা অবাক হয়ে দেখত।আর একটু গলা বাড়ালে দেখা যেত রামকুমারের ইস্তিরি ঘর।রাশি রাশি জামাকাপড় দিনরাত ইস্তিরি হয়ে চলেছে।তার স্কুলের জামাও ওখানে ইস্তিরি হয়।এরপর মা এসে ওকে টেনে নিয়ে যেতে শোয়াতে।
বাসে করে যে রাত ভ্রমণের কথা বলেছিলাম, তাতে মেয়ে টা সবচে মজা পেত নদী নালার পাশে ছোটছোট ঘর দেখে।অন্ধকারে মিটমিট করতো আলো।কারা থাকে ওখানে?জলের পাশে জেলেরা থাকে?বাড়ি ফেরার সময়ে ছোট মাছ ধরে নিয়ে আসে?এইসব প্রশ্ন করতো বাবাকে ।ওদের তেল নেই।তাই মাছ পুড়িয়ে শুকনো লঙ্কা ডলে পান্তা খায়।সামান্য তেলটুকু কুপি তে জ্বলে। ও মনে মনে দেখতে পেতো কুপির টিমটিমে আলোতে বসে জেলে বউ,ছেলে,মেয়ে নিয়ে মাছপোড়া খাচ্ছে ।কি নিশ্চিন্তি ।
রাত কি তা বলে দুঃখ হয়ে আসে নি?বাবা যখন হঠাৎই চলে গেলেন,মায়ের হাতে হাত রেখে রাত কাটত।একরাততিরে খুব ঝড় হয়েছিলো ।ঘুলঘুলি দিয়ে জল এসে ভিজিয়ে দিয়েছিল ঘরদোর।সারারাত মা কে নিয়ে বসেছিল সে।মোমের আলোয় চেনা বাড়ি অচেনা।টানা লোডশেডিং।সেসব দুঃখরাত পার হয়ে অনেকদূর চলেছিল দুজনে।
তারপর যখন দূরপাল্লার বেড়ানোর নেশা ফের চাপলো মাথায়,মস্ত মস্ত রাত ভ্রমণ করেছে তারা।মুম্বাই থেকে গোয়া যাবার রাতের বাস ভারি ভালো ।আধশোওয়া হয়ে দিব্যি আরামে যাওয়া যায়।বাসে মার দাঙ্গা মার্কা হিন্দি ছবি চলে।তাও একরকম চলমান জীবনের ছবিই তো।সেরকম ভ্রমণ কালে রাতে ডিনার হয়তো হত কোনো পেট্রল পাম্পে ।মানে ট্রাভেল এজেন্সি সেইরকম একটা ব্যাবস্থা করেছেন।রাত এগারোটা র সময় পেট্রল পাম্পের পাঁচিলে বসে পা দোলাতে দোলাতে গলা খিচুড়ি আর আলুভাজা, বেগুনভাজা খাচ্ছি ।উফফ! এই না হলে বেড়ানো!বাসে সবাই তখন চেনা হয়ে যায়।প্রায় একটা পরিবার ঝগড়া ঝাটি বা বাদ কেন!!!!কিন্তু সব মিলিয়ে জমজমাট মজা।রাতের বাসে অন্তাক্ষরী খেলোনি? করেছো কি?আমি তো পারলে এখোনো......।হঠাত পাতানো মাসি,মেসো,দিদি,দাদারা রাতকে পাহারা দিয়ে রাখেন।নো চিন্তা ।নো ভাবনা।
বেড়াতে গিয়ে নৈশাহারের পরে পায়ে হেঁটে ঘোরা আমার বাই।একটা জায়গা কে চিনতে গেলে তাকে সকালে দেখবো,দুপুরে দেখবো,রাতে দেখবো না?সে সব লিখতে গেলে মহাভারত হবে।এটুকু না লিখে পারছি না,রাতের পাহাড়ে হাঁটার মজাই আলাদা।শনশন হাওয়া ।কনকনে ঠান্ডা তে হাত পা জমে বরফ।আপাদমস্তক ঢেকে খাদের পাশে দাঁড়িয়ে অন্ধকারে দেখছি হিমালয়ের গলায় হীরের নেকলেস! !!বন্ধুদের সঙ্গে এ আনন্দ ভাগ না করে যাই কোথায়!সে এক অন্য কবিতা।আজএই পর্যন্ত! !!ভালো থেকো আঁধারময়ী!
গতকাল বলছিলাম রাত্রির নিভৃতির কথা।কিছু কথা বাকি ছিল ....তাই তাদের ভাগ করে নেওয়া বন্ধুদের সঙ্গে ।
রাত যদি মানুষ হত, তবে তার নাম দিতাম আঁধারময়ী ।খুব ছোট্ট বেলা থেকে তার সঙ্গে আমার আদান প্রদান ।বাবা ফিরতেন অনেক দেরী তে।যতক্ষণ বাবা না আসতেন , পড়াশোনা, গানের পাট সেরে একটা ছোট্ট মেয়ে কোলাপসেবল গেট ধরে দাঁড়িয়ে থাকত।সেটা আমাদের বালিগঞ্জের বাড়ি।তখন কিন্তু সে রাত কে ভয় পেত।যদি বাবা হারিয়ে যায়!যেই বাবা দোড়গোড়ায়,ওমনি সব ভয় হাওয়া! তারপরও তাদের শুতে অনেক রাত হত।খাওয়ার পর বাবা তুলি হাতে ইজেলের সামনে।মেয়ে টা দেখতে পেতো একটু দূরে হাতে টানা রিকশা চালকরা জড়ো হয়েছে ।কোমরে বাঁধা পোটলা থেকে ছাতু বেরোচ্ছে ।বেরোচ্ছে লঙ্কা ।ছেদিলালের দোকান থেকে কেউ নিয়ে গেল একটি পলা সর্ষের তেল।ছাতু মাখা হত জম্পেশ করে।মেয়েটা ঘাড় উঁচু করে সেই খাবারের গন্ধ নিতে চাইত।পেতো না।তারপর শুরু হত দেহাতী গানা।রাত গভীর হতে তারা গামছা বিছিয়ে রিকশার নীচেই ঘুমিয়ে যেত! তখন আর রাত্রি বেলাটা ভয়ের কিছু নয়!রাস্তার ওপর কয়েকজন মানুষ কি নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে! গেটের এপাশ থেকে মেয়েটা অবাক হয়ে দেখত।আর একটু গলা বাড়ালে দেখা যেত রামকুমারের ইস্তিরি ঘর।রাশি রাশি জামাকাপড় দিনরাত ইস্তিরি হয়ে চলেছে।তার স্কুলের জামাও ওখানে ইস্তিরি হয়।এরপর মা এসে ওকে টেনে নিয়ে যেতে শোয়াতে।
বাসে করে যে রাত ভ্রমণের কথা বলেছিলাম, তাতে মেয়ে টা সবচে মজা পেত নদী নালার পাশে ছোটছোট ঘর দেখে।অন্ধকারে মিটমিট করতো আলো।কারা থাকে ওখানে?জলের পাশে জেলেরা থাকে?বাড়ি ফেরার সময়ে ছোট মাছ ধরে নিয়ে আসে?এইসব প্রশ্ন করতো বাবাকে ।ওদের তেল নেই।তাই মাছ পুড়িয়ে শুকনো লঙ্কা ডলে পান্তা খায়।সামান্য তেলটুকু কুপি তে জ্বলে। ও মনে মনে দেখতে পেতো কুপির টিমটিমে আলোতে বসে জেলে বউ,ছেলে,মেয়ে নিয়ে মাছপোড়া খাচ্ছে ।কি নিশ্চিন্তি ।
রাত কি তা বলে দুঃখ হয়ে আসে নি?বাবা যখন হঠাৎই চলে গেলেন,মায়ের হাতে হাত রেখে রাত কাটত।একরাততিরে খুব ঝড় হয়েছিলো ।ঘুলঘুলি দিয়ে জল এসে ভিজিয়ে দিয়েছিল ঘরদোর।সারারাত মা কে নিয়ে বসেছিল সে।মোমের আলোয় চেনা বাড়ি অচেনা।টানা লোডশেডিং।সেসব দুঃখরাত পার হয়ে অনেকদূর চলেছিল দুজনে।
তারপর যখন দূরপাল্লার বেড়ানোর নেশা ফের চাপলো মাথায়,মস্ত মস্ত রাত ভ্রমণ করেছে তারা।মুম্বাই থেকে গোয়া যাবার রাতের বাস ভারি ভালো ।আধশোওয়া হয়ে দিব্যি আরামে যাওয়া যায়।বাসে মার দাঙ্গা মার্কা হিন্দি ছবি চলে।তাও একরকম চলমান জীবনের ছবিই তো।সেরকম ভ্রমণ কালে রাতে ডিনার হয়তো হত কোনো পেট্রল পাম্পে ।মানে ট্রাভেল এজেন্সি সেইরকম একটা ব্যাবস্থা করেছেন।রাত এগারোটা র সময় পেট্রল পাম্পের পাঁচিলে বসে পা দোলাতে দোলাতে গলা খিচুড়ি আর আলুভাজা, বেগুনভাজা খাচ্ছি ।উফফ! এই না হলে বেড়ানো!বাসে সবাই তখন চেনা হয়ে যায়।প্রায় একটা পরিবার ঝগড়া ঝাটি বা বাদ কেন!!!!কিন্তু সব মিলিয়ে জমজমাট মজা।রাতের বাসে অন্তাক্ষরী খেলোনি? করেছো কি?আমি তো পারলে এখোনো......।হঠাত পাতানো মাসি,মেসো,দিদি,দাদারা রাতকে পাহারা দিয়ে রাখেন।নো চিন্তা ।নো ভাবনা।
বেড়াতে গিয়ে নৈশাহারের পরে পায়ে হেঁটে ঘোরা আমার বাই।একটা জায়গা কে চিনতে গেলে তাকে সকালে দেখবো,দুপুরে দেখবো,রাতে দেখবো না?সে সব লিখতে গেলে মহাভারত হবে।এটুকু না লিখে পারছি না,রাতের পাহাড়ে হাঁটার মজাই আলাদা।শনশন হাওয়া ।কনকনে ঠান্ডা তে হাত পা জমে বরফ।আপাদমস্তক ঢেকে খাদের পাশে দাঁড়িয়ে অন্ধকারে দেখছি হিমালয়ের গলায় হীরের নেকলেস! !!বন্ধুদের সঙ্গে এ আনন্দ ভাগ না করে যাই কোথায়!সে এক অন্য কবিতা।আজএই পর্যন্ত! !!ভালো থেকো আঁধারময়ী!

No comments:
Post a Comment