ট্রেনযাত্রার অনেক মজার অভিজ্ঞতার একটির গপ্পো রইলো...।আমি আছি এক নীচের আসনে...। সামনের সাইড-লোয়ারে এক দম্পপ্তি,সঙ্গে মাস-ছয়েকের শিশু-পুত্র।ভদ্রলোক প্রবল গপ্পে...।তৎসহ পত্নি-সেবাতে অতি-তৎপর ।বেশ লাগছিলো।বুঝতে পারলাম তরুণী বধূটি প্রথম ট্রেনে চড়েছে।গায়ে দামী সিল্কের শাড়ি,সোয়েটার,চাদর,তদুপরি তার পতিদেবটি তাকে কম্বলে মুড়ে রেখেছেন।‘বোঝলেন কিনা,জীবনে সাক্সেস পাইসি,বউরে সিড়িয়াখানা দ্যাখাইয়া লইয়া আসি...’ ।যত্ন করে বউকে রুটি তরকারী খাওয়ালেন,নিজেই ব্যাগপ্ত্র গোছালেন,কে বলে ছেলেরা গৃহকাজ করে না! ‘হাত ধুমু কই?’ প্রশ্ন করে মেয়েটি—‘অইনে তাকাও।।বেসিন আসে’,বধূটি মুগ্ধ।‘বাথরুম-ও আসে”।।মেয়েটি কিংকর্তব্য-বিমূড়!”তাই!!! কিন্তু সাহস করে সে বেসিন বা বাথরুম কোথাও-ই যায় না। কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ে।
এরপর শিশুর প্রবল কান্না।।তিনপ্রস্থ টুপি সোয়েটার সহ তাকে কম্বল চাপা দিচ্ছে তার বাবা। মা ঘোর নিদ্রা মগ্ন। বাধ্য হয়ে বলি,টুপি গুলো খুলে দিন না।
পিতাটি অতঃপর তাকে কোলে নিয়ে পায়চারি করেন।দার্জ্জিলিং মেল ছুটছে নিজের গতিতে। বই থেকে মুখ তুলে দেখি সামনে শিশু কোলে পিতা...একগাল হেসে বললেন...। “আমার ছেলেটা না,বোঝলেন দারুণ ইন্টেলিজেন্ট!’ ‘তাই বুঝি?’
বিগলিত পিতা আরো গদগদ ‘হ্যাঁ...।জানেন ,এ্যাতো ইন্টলিজেন্ট কি কমু..।।অয় না ... বকা দিলে্ ভ্যাঁ কইরা কান্দে!”
আমার ট্রেনযাত্রা সার্থক! জয়তু অপত্য স্নেহ!
এবার ট্রেনভ্রমণের আরেক গপ্পো।সেবার জম্মু থেকে মা আর আমি ফিরছি কলকাতা। দীর্ঘ যাত্রা ।দিব্যি আলসেমি করে ,বই পড়ে সময় কাটছে। দিল্লি থেকে সহযাত্রী হলেন ...হ্যাঁ।।এবার ও ওই শিশু সহ দম্পতি।এঁরা বেজায় খাদ্যরসিক।সঙ্গে প্রচুর খাদ্যসম্ভার, তদুপরি স্টেশন এলে প্রবল বেগে খাদ্য সংগ্রহ করছেন।পরোটা,আলুর দম, কেক,সিংগারা,কেলা,আপেল,ঝালমুড়ি,চাট...মুখ আর থামে না।ক্ষতি নেই,কিন্ত্যবছর দেড়েকের শিশুটিকেও তাঁরা বিরামহীন খাইয়ে চললেন। সে ও দিব্যি বাপ-মা-কা বেটা। খেয়েই চলল। এবং তারপর যা হবার তাই হল।।অবিশ্রান্ত বমি আর পটি। অকুতোভয় পিতা-মাতা বললেন।।‘কুছ নহি,ঠিক হো জায়েগা!’অতএব আহার বন্ধ হল না । অক্লান্ত আপেল সিংগারা র সঙ্গে চলল অক্লান্ত বমি ইত্যাদি। ট্রেনের কামরার মধ্যেই।
বহুক্ষণ সহ্য করে বলি।।‘বহেনজি,ইসে থোড়া বাহার লে যাকে ,টয়লেট লে যাকে ধুলাইয়ে না!
আশ্চর্য হয়ে তাকান তার মা-জননী,এবং নিষ্কম্প উত্তর...। “ইয়ে মেরা রাজা বেটা হ্যায়।
এবং যা চলছিল চলতে থাকে!
সত্য সেলুকাস!
এরপর শিশুর প্রবল কান্না।।তিনপ্রস্থ টুপি সোয়েটার সহ তাকে কম্বল চাপা দিচ্ছে তার বাবা। মা ঘোর নিদ্রা মগ্ন। বাধ্য হয়ে বলি,টুপি গুলো খুলে দিন না।
পিতাটি অতঃপর তাকে কোলে নিয়ে পায়চারি করেন।দার্জ্জিলিং মেল ছুটছে নিজের গতিতে। বই থেকে মুখ তুলে দেখি সামনে শিশু কোলে পিতা...একগাল হেসে বললেন...। “আমার ছেলেটা না,বোঝলেন দারুণ ইন্টেলিজেন্ট!’ ‘তাই বুঝি?’
বিগলিত পিতা আরো গদগদ ‘হ্যাঁ...।জানেন ,এ্যাতো ইন্টলিজেন্ট কি কমু..।।অয় না ... বকা দিলে্ ভ্যাঁ কইরা কান্দে!”
আমার ট্রেনযাত্রা সার্থক! জয়তু অপত্য স্নেহ!
এবার ট্রেনভ্রমণের আরেক গপ্পো।সেবার জম্মু থেকে মা আর আমি ফিরছি কলকাতা। দীর্ঘ যাত্রা ।দিব্যি আলসেমি করে ,বই পড়ে সময় কাটছে। দিল্লি থেকে সহযাত্রী হলেন ...হ্যাঁ।।এবার ও ওই শিশু সহ দম্পতি।এঁরা বেজায় খাদ্যরসিক।সঙ্গে প্রচুর খাদ্যসম্ভার, তদুপরি স্টেশন এলে প্রবল বেগে খাদ্য সংগ্রহ করছেন।পরোটা,আলুর দম, কেক,সিংগারা,কেলা,আপেল,ঝালমুড়ি,চাট...মুখ আর থামে না।ক্ষতি নেই,কিন্ত্যবছর দেড়েকের শিশুটিকেও তাঁরা বিরামহীন খাইয়ে চললেন। সে ও দিব্যি বাপ-মা-কা বেটা। খেয়েই চলল। এবং তারপর যা হবার তাই হল।।অবিশ্রান্ত বমি আর পটি। অকুতোভয় পিতা-মাতা বললেন।।‘কুছ নহি,ঠিক হো জায়েগা!’অতএব আহার বন্ধ হল না । অক্লান্ত আপেল সিংগারা র সঙ্গে চলল অক্লান্ত বমি ইত্যাদি। ট্রেনের কামরার মধ্যেই।
বহুক্ষণ সহ্য করে বলি।।‘বহেনজি,ইসে থোড়া বাহার লে যাকে ,টয়লেট লে যাকে ধুলাইয়ে না!
আশ্চর্য হয়ে তাকান তার মা-জননী,এবং নিষ্কম্প উত্তর...। “ইয়ে মেরা রাজা বেটা হ্যায়।
এবং যা চলছিল চলতে থাকে!
সত্য সেলুকাস!

No comments:
Post a Comment