Monday, 1 August 2016
চারদিকে এত হিংস্রতা।ভাল লাগছে না কিছু।তোমার হলুদ রঙ ভাল লাগে।আমার হলুদ রং না-পসন্দ ।আমার প্রিয় বেগুনী ।তাই তোমাকে আমি মারবো?আমার লুচি ছোলার ডাল পছন্দের খাবার,তোমার রুচি পিৎজাতে।তোমায় আমি গাল মন্দ করবো? লম্বা চুল আমার ভাল লাগে বলে তোমার ছোট চুল দেখে আমি টিটকিরি দেবো? তুমি আকাশকে পূজো করো।আমি পূজো করি জল।তাই তুমি আমাকে ছুরি মারবে?দেওয়াল তুলেও শান্তি নেই।মুখ দেখাদেখি বন্ধ ।তাতে কি? পুড়িয়ে না মারলে গায়ের জ্বালা মিটছে না।ধর্ষণ না করলে প্রশমিত হচ্ছে না বিকৃতকাম।লোভ।আরো লোভ।পছন্দের র মেয়েটি বুঝি চলে গেল অন্য কোথাও ।প্রতিযোগী ছেলেটির পেটে ঢুকিয়ে দাও ভাঙা বোতল।কুপিয়ে মারো সুখী শান্ত পরিবার।পেলেট গান ছোড়ো কচি কিশোরের চোখে।
কেমন পাগল পাগল লাগে ।মেরে ফেলা এত সহজ!পার্টি মানেই নেশাগ্রস্ত হুল্লোড় আর বেয়াদপি।স্বাভাবিক বিনয় আর সৌজন্য হারিয়ে যাচ্ছে ।আমরাই কি খুব সহিষ্ণু সবসময়?প্রযুক্তির ডানায় ভর দিয়ে ভাবছি হাম কি হনু।আসলে প্রতি মুহুর্তে আরো বেশী অসহিষ্ণু হয়ে উঠছি।আরো বেশী স্পর্ধিত ।আমার বাড়ি তোমার চেয়ে ভালো ।আমার দেশ তোমার দেশের চেয়ে ভালো ।এবং ভাষা এবং ধর্ম ।অসহিষ্ণু স্পর্ধা র অহংকারী ধ্বজাধারী রা হানাদার হয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ।খুব ভয় হয়।অস্থির লাগে এত অশান্তি র মধ্যে গোটা জাতি নাকি পোকেমন গো খেলছে।খেলতে খেলতে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলছে।অনেক চেষ্টা করেও খেলাটার মাহাত্ম্য বুঝলাম না।জেনারেশন গ্যাপ বটে।কিন্তু পোকেমনের কথায় আমার একজনের কান্ড মনে পড়ল ।তাকে মনে করে এই বিশ্রী সময়ে একটু শান্তি পাই।
সে হল মাকু।লীলা মজুমদারের মাকু।শুনলাম মাকু স্কুলের সিলেবাসে এসেছে।এ আনন্দের খবর রাখি কোথায়?মাকু পড়ে অনাবিল আনন্দে ভেসে গেছিলাম যখন,তখন আমি ক্লাস থ্রী ।পায়ে ব্যান্ডেজ ।খেলতে গিয়ে পা কেটে বিছানায়।জ্বর ।পরেরদিন পরীক্ষা ।এমতাবস্থায় বাবার প্রেসক্রিপশন চিকেন সুরুয়া আর লীলা মজুমদারের ছোটদের অমনিবাস।ছোট ছোট গপ্পো উপন্যাসে ঠাসা।রসে টইটুমবুর।মাকু ঐরকম একটা লেখা ।ছোট্ট দুই বোন সোনা আর টিয়া।মনের দুঃখে বাড়ি ছেড়ে চলল কালিয়ার বনে।কেন?না পিসির ছেলে বোমবা আসছে।এখন সব খাবার আর খেলনা তারই জন্য ।ইসস।কি দুঃখ।পথে দেখা ঘড়িয়ালার সঙগে।তার কলের পুতুল মাকু হারিয়ে গেছে।সে আবার কাঁদে হাসে।সোনা টিয়া কি কালিয়ার বনে মাকু কে খুঁজে দেবে?টিয়া আবার কথায় কথায় দামোদর নদ ।সে হোক।কালিয়ার বন কি যে সে বন?সেখানে কত প্রজাপতি আর খরগোশ।সবুজ পাতার ওপর রোদ ঝিকমিক করে।মাকড়সা জাল বোনে।এইখানে ওদের দেখা মাকুর সঙ্গে ।মাকু কি ভাল।ওদের কোলে করে নদী পার করে দিল পর্যন্ত! !!আর আছে হোটেলওয়ালা আর সার্কাস পার্টি র ছেলেপুলে।তাদের মালিক নিখোঁজ কিনা।তাই হোটেলওয়ালা তাদের মকশ করায়।ট্রাপিজের খেলা হয় বটগাছের ঝুড়িতে।আকাশ থেকে পরীরাণীকে নামায় জাদুকর।খেলাশেষে সবাই গাছের ডালে বসে হাতরুটি আর স্বর্গের সুরুয়া খায়।আমি এখনো কালিয়ার বনে যেতে চাই !!!!শেষে কিন্ত অনেক মজা।বাড়ির সককলে সোনা টিয়া কে খুঁজতে কালিয়ার বনে।পিসির ছেলে ওদের দেখে বলল দিদিয়া! !ব্যস! আর হিংসে নেই! হোটেলওয়ালা ই তো নোটোমাসটার !আর মাকু?সে তো ....আর বলব না।প্লীজ পড়ে নিও।রবিবার ঝলমলে হয়ে যাক!পৃথিবীর সব সোনা টিয়ারা ভালো থাকুক।মাকুরা যেন পোকেমন হয়ে না যায়।মাকুকে দখল করা যায় না।সে ভালোবাসা দিয়ে সবাইকে দখল করে।মানুষ ও তাই করুক না!
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
হঠাৎ করে 'মাকু'কে খুঁজতে গিয়ে আপনার ব্লগটা খুঁজে পেলাম! এক লীলা ভক্তের তরফ থেকে আরেক ভক্তের জন্য ভারচুয়াল হাই ফাইভ রইলো। :)
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ ।
ReplyDelete