সন্ধ্যামাসি বেজায়
জাঁদরেল মহিলা...একটু পিটপিটে ও আছে,সেটা অবশ্য মন্দ নয়... মাঝে মাঝে আমাকেও বকুনি
দিয়ে থাকে,আমার নেহাত অসুবিধে হয় না।প্রথমদিন এ বাড়িতে এসে মাসি চারদিক দেখেশুনে
বেশ পুলকিত হয়েছিল ,চার দিকে এত দেবদেবীর মূর্তি,পট ইত্যাদি দেখে মাসি খুব খুশী,ভাবলো
আমি ভীষণ পূজো-আর্চা করি।সন্ধ্যেবেলা দেখি সে মহাভক্তি ভরে ওড়িশার পট ,তাঞ্জোরের
শিব,মাদুরাই এর গণেশর সামনে ধূপধুনো দিচ্ছে।আমি হা হা করে বলি-ও মাসি,কি
কছছো,ঠাকুরের আসনে ধুপ দাওগে...এসব মূর্তি শুধু সাজিয়ে রাখার জন্য তো।মাসির চোখ
কপালে।এ আবার কেমন তরো কথা!! তুমি বলে কলেজে পড়াও? ঠাকুর দেবতাকে উপোসী রাখতে আছে?
ভয় পেলাম এবার না আমার টেরাকোটার দুগগা,নৃত্যরত গণেশের সামনে বাতাসা-জল আসে!
সকালেই মাসির সঙ্গে একপ্রস্থ হয়ে গেছে...।জিজ্ঞেস করলো।।তুমি দীক্ষা নাও নি? মাসি
নিজে ঘোর বৈষ্ণব ...স্নান করে ফোঁটা কেটে তবে কাজকম্মে হাত দেয়।।বল্লাম।।না।।আর
নেবও না।মাসি রেগে আগুন ।জানো দীক্ষা না নিলে দেহ শুদ্ধ হয় না? দীক্ষা নিলে মরার
পর দেহ ফুল বাগান হয়? জীবনে অনেককিছুর মতো এটাও জানতাম না। মাসি আমার অজ্ঞতা আর
অনাচার দেখে খুবই অসন্তুষ্ট...তাই দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথের বাল্মীকিসাজা ছবি দেখিয়ে
বলি...অই যে ছবি দেখছো।।ওঁর কাছে দীক্ষা নেওয়া আছে,তুমি ভেবো না। মাসি ছোড়নেয়ালি
না।। এই যে বললে দীক্ষা নাও নি? ভুলে গেছিলাম মাসি... মাসি আমার হয়ে রবি ঠাকুর কে
ও ধূপ দেখিয়ে দেয়।
তারপর আবার বকুনি।।এটা
কি বানিয়েছো? ফাঁকিবাজি রান্না করতে ভালোবাসি,সয়া আর চিলি সস দিয়ে ম্যারিনেট করে
,পেঁয়াজ-লঙ্কা ভেজে চিংড়ি মাছ কষিয়ে রান্না করেছি।। মাসি মুখে দিয়ে বললো।।এ আবার
খাওয়া যায়!!টক! বলে আমাকে সরিয়ে নারকেল কুরোতে বসে।। মালাইকারি করবে। সুক্তো
রাঁধবে তরিবৎ করে।কাজেই কিছছু না বলে পালাই...।মনে পড়ে ছোটবেলায় সরজূমাসির কথা...
বাবা রান্নাঘরে ঢুকলেই সে চেঁচাত।।দাদাবাবু তুমি আর এঁদো নি গো! এঁদোনি! বাবার
এক্সপেরিমেন্টাল রন্ধন তার সহ্য হতো না!
মাসির সান্ধ্যকালীন
পূজো-আর্চায় আমি অন্তরায় হই না...।।শিল্পকর্মরা একটু ধুপ-ধুনো পেলই না হয়!

No comments:
Post a Comment