Tuesday, 10 January 2017
লক্ষীপূজোর রাতে একবার বেতলার জঙ্গলে ছিলাম।পূর্ণিমার রাতে বড় মায়াময় ছিল জঙ্গল ।বনবিহারের সামনে সবুজ লনে জমায়েত হয়েছিল অজস্র হরিণ ।বাঘের ভয়ে তারা চলে এসেছে মানুষের কাছে।বেচারা হরিণেরা! তবে যা হোক,অন্ধকারে জ্বলছিল তাদের চোখ।আমরা মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম ভীত সন্ত্রস্ত হরিণদের অলৌকিক রূপ ।ধন্যি আমরা!
আজ শহরের জঙ্গলে সারাদিন ফাঁকা ফাঁকা ঘুরে বেড়ালাম।পূজোউৎসব সাঙ্গ করে বেশীর ভাগ জনগণ আজ শ্রী এবং হ্রী র আরাধনায় মগ্ন।লক্ষী দেবীকে সাধ করে চটাই না আমরা।তাই মনে হচ্ছিল মহানগর আজ অর্ধেক শূন্য ।দুরন্ত গতির গাড়ি ।জ্যাম নেই কোনো খানে।অর্ধেক দোকানপাট বন্ধ ।উৎসবের রেশ লেগে আছে শহরের শরীরে।আলোর মালারা শপিং মলগুলির বক্ষলগ্ন হয়ে দোলে দোদুল দোলে ঝুলনা।অপেক্ষাকৃত ভাবে কম ভীড়।হাতবাছা কিনা ভাবি না।ফাঁকাতে কেনাকাটা বড় সুখের।দিব্যি সুন্দর মনের মত শাড়ি খুঁজে পাই!ঝলমলে দক্ষিণাপণ আজ ঘুমঘুম নিঃঝুম।টিমটিম করে যে কটি আপণ খোলা তাদের একটিতে পেয়ে গেলাম চমৎকার লালহলুদে ছড়াকাটা হ্যান্ডলূমের বিছানাভরণ ।দাম ও মনের মত।ফ্যাব ইন্ডিয়ার ছাপ্পা পড়লে এ জিনিষ তিনগুণো বেশী দামে বিক্কিরি হবে।বেঁচে থাক দক্ষিণাপণ !
গাড়ির জানালায় নাক ঠেকিয়ে আধোঅন্ধকার শহরকে দুচোখ ভরে দেখি।ছোটবেলায় ডাবল ডেকারে র দোতলাতে বসে ঠাকুর দেখতাম ।তার সঙ্গে ছিল বানান পরীক্ষা ।সব হোর্ডিং পড়তে হত।ঐ ছিল বাবার পড়ানোর ধরন!সেই সময়ের অবাক বিস্ময়ে দেখা কলকাতার বেশ কিছু বাড়ি এখনো বেঁচে আছে।ফাঁকা রাস্তায় তারা স্পষ্ট প্রতীয়মান ।এই প্রাচীন বিশালাকায় ম্যানশনগুলি নিয়ে আমার প্রায় ভয়্যুরিসটিক আগ্রহ।ঝকঝকে শহরে আধিভৌতিক চেহারার প্রাচীন গৃহ।পুরোনো আমলের দরজা,জানালা,বারান্দা ।ভুতুড়ে করিডোর।মান্ধাতা র আমলের ইলেকট্রিক মিটার ।দোরগোড়াতে লেখা মতিলাল অ্যান্ড সন্স ।তারা কে?ঠাহর করে দেখি ডেন্টাল রিপোর্ট ।পাশে লেখা অন্নপূর্ণা লাইব্রেরি ।তার পাশে বিজন কাফে।জরাজীর্ণ চেয়ার টেবিলে গুটিকয়েক মলিন মানুষ।একটু নীচে রাস্তা তে ত্রিপল টাঙিয়ে রুটি ভাজছে বৌ।অ্যাত্তো রুটি।নিশ্চয়ই খাবারে খরিদ্দার আছে!কিন্তু নিশ্চিন্ত লাগে! সিগন্যাল পেয়ে গাড়ি ছেড়ে দেয়।মরচে ধরা কোল্যাপসিবল গেট, সামনে শিশু কোলে ভিখারিনী পেছনে পড়ে থাকে।নিশি দিশি দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন বাড়িটি পিছে পড়ে থাকে ।তার দোতলা তিনতলা চারতলা য় আলো জ্বলছে ।করিবরগা র ছাত।বারান্দার কোণে ডাঁই করা পুরানো আসবাব।ঘরে নিষ্প্রাণ ফ্লুরোসেন্টের আলো।অন্যদিন ঝলমলে আলোর দাপটে এসব বাড়ি হারিয়ে যায়।আজ আধোআলোয় তাদের মন দিয়ে দেখি।এই আধবোজা শহরকে যদি ধরতে পারতাম!জঙ্গলের চেয়ে এর রহস্য কিছু কম নয়!
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment